Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৯ ২২:২৮

হঠাৎ লড়াইয়ে মমতা-মায়া!

ভারতে লোকসভায় বাকি আর এক ধাপের ভোট

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

হঠাৎ লড়াইয়ে মমতা-মায়া!

ভারতে সাত পর্বের লোকসভা নির্বাচনের একটি মাত্র পর্ব বাকি। শেষ পর্বে ১৯ মে আট রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। লোকসভার সব আসনের ভোট গণনা করা হবে ২৩ মে। ফল ঘোষণাও সেদিন। কিন্তু তার আগেই চিড় ধরেছে বিজেপিবিরোধী শিবিরে। ফাটলের কারণ একটাই- প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও বহুজন সমাজ পার্টি (বসপা) নেত্রী মায়াবতীর মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই। ২১ মে দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের সব নেতানেত্রীকে নিয়ে বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। কিন্তু সে বৈঠকে যাওয়ায় অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন মমতা ও মায়াবতী। বৈঠকে গরহাজির থাকতে পারেন সপা নেতা অখিলেশ যাদবও। বৈঠক শেষে নেতানেত্রীদের রাষ্ট্রপতির কাছেও যাওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতিকে জানানোর কথা সরকার গঠনের আগে তিনি যেন বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলেন। সব মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, মুখে মোদিকে দিল্লি থেকে হটানোর কথা বললেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট। গত সপ্তাহেই চন্দ্রবাবু নাইডু পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময়ই নাইডু যখন ২১ মের প্রস্তাবিত বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন তখনই মমতা জানিয়ে দেন ২৩ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার আগে এ ধরনের বৈঠকের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। একই অভিমত প্রকাশ করেছেন মায়াবতীও। আসলে ভোটের ফলেই নিজেদের ওজন বুঝে নিতে চাইছেন মমতা-মায়াবতী-অখিলেশরা। বিরোধী দল একত্রে কত আসন পেতে পারে তাও মাথায় রাখতে হচ্ছে, যাতে দরকষাকষিতে সুবিধা হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ যদি কেন্দ্রে ফের ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরের তরফে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে কার নাম তুলে ধরা হবে তা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে। এ পদে মমতা ও মায়াবতী- উভয়েই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে দৌড়ে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও। বিরোধীদলীয় অনেক নেতাও প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুলকেই সমর্থন করেছেন। তবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে কেউই আগ বাড়িয়ে নিজের নামটি সামনে আনতে চাইছেন না। যদিও ডিএমকেসহ কয়েকটি দল ইতিমধ্যেই পিএম পদে রাহুলের নাম প্রস্তাব করেছে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তৃণমূল ও বসপা- দুই দলই তাদের নিজেদের রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো জোটে যায়নি। এমনকি জাতীয় রাজনীতিতে একে অন্যের সঙ্গী হলেও রাজ্যে দূরত্ব বজায় রেখেছে। এটা ঠিক, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই মমতার। কিন্তু ভোট গণনার পর নরেন্দ্র মোদিকে পিএম পদ থেকে সরাতে প্রয়োজনে কংগ্রেসকে সমর্থন করলেও করতে পারেন। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো এবারও মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস যদি সর্বোচ্চ আসনে জয় পায় তবে প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নিজেই তার নামটা ভাসিয়ে দিতে পারেন।

কংগ্রেস থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন বসপা নেত্রী মায়াবতীও। এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো আপসে যেতে রাজি নন বহেনজি। সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানের কংগ্রেস সরকারকে প্রবল তোপ দাগেন। চলতি লোকসভা নির্বাচনেই উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেননি বসপা নেত্রী। রাজনৈতিক সমীকরণই আভাস দিচ্ছে, মায়াবতী কোনোমতেই প্রধানমন্ত্রী পদে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন না। বরং এনডিএ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এবং উত্তর প্রদেশে বসপা-সপা জোট বেশি আসন পেলে মায়াবতী নিজেই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য তার নাম সামনে আনতে পারেন। এ জল্পনা ছড়িয়েছে তার একটি মন্তব্যকে ঘিরে। সপ্তাহখানেক আগে উত্তর প্রদেশের আম্বেদনগর থেকে তিনি ঘোষণা দেন- ‘সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, লোকসভা আসনে তিনি লড়াই করতে পারেন।’ যদিও মমতা এখনো নিজের মুখে এ রকম কোনো ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেননি ঠিকই, তবে দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য- প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সব গুণই আছে তাদের নেত্রীর মধ্যে।

কলকাতায় অমিত শাহের রোড শো ঘিরে সংঘর্ষ : সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ১৯ মে শেষ ধাপের ভোট গ্রহণের আগে গতকাল কলকাতায় বিরাট রোড শোয় অংশ নিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। শেষ পর্বে ভোট নেওয়া হবে দেশের আট রাজ্যের ৫৯ আসনে; যার মধ্যে আছে কলকাতা, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবারসহ কলকাতা ও পাশের নয়টি লোকসভা আসন। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ- এ দুই আসনের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনেই মূলত এদিন কলকাতায় রোড শোয় অংশ নেন বিজেপি সভাপতি।

কলকাতার ধর্মতলা থেকে বিকালে শুরু হয় রোড শো। এরপর ওয়েলিংটন, বউবাজার ক্রসিং, কলেজ স্ট্রিট, বিডন স্ট্রিট হয়ে সিমলা স্ট্রিটে বিবেকানন্দের বাসস্থানে পৌঁছানোর কথা ছিল সেই র‌্যালির। কিন্তু মাঝপথে ছন্দপতন। কলেজ স্ট্রিটের কাছে বিজেপির শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র সংগঠন (টিএমসিপি)-এর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে কার্যত সেখানেই থমকে যায় ওই র‌্যালি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে পাশের বিদ্যাসাগর কলেজের সামনেও। কলেজের ভিতর থেকে বিজেপিবিরোধী স্লোগান দেওয়ার সময় বিজেপির সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একসময় দুই পক্ষের সঙ্গেই সংঘর্ষ বাধে। একে অন্যকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইট-পাথর বৃষ্টি। বিদ্যাসাগর কলেজের ফটকে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলেও অভিযোগ।

সন্ধ্যায় কলকাতার টালিগঞ্জে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতার সময় মমতা বলেন, ‘বিজেপি লোক নিয়ে এসেছে কাকে? উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খ  থেকে। বোলপুর, বাঁকুড়া, জঙ্গলমহল থেকে। আরে তোর যদি লোক না থাকে তবে করতিস না। দেখাবার কী প্রয়োজন? আর তা করতে গিয়ে নাকি একজন মারাও গেছে।’ মমতার অভিযোগ, ‘কলকাতায় অনুপ্রবেশ হয়েছে। গেস্ট হাউসগুলোয় উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খে র গুন্ডা ঢুকেছে। সব ক্রস চেক করুন। দরকার হলে আমাকেও ছাড়বেন না। আমি চাই বিচার হোক।’


আপনার মন্তব্য