Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০১৯ ২৩:২৭

খুলল দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু

আসছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিদিন ডেস্ক

আসছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পঞ্চগড় রুটে ট্রেন, দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধন করেন -বাসস

ঢাকায় মেট্রোরেলের পর বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে স্বল্প বিরতির আন্তনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘দ্বিতীয় মেঘনা সেতু’ এবং ‘দ্বিতীয় গোমতী সেতু’রও উদ্বোধন করেছেন। খবর : বাসসের। ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন : গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা মেট্রোরেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেই সঙ্গে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশবান্ধব-সেই বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও চালু করব। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল। এখন প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। যেসব মেগা প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না।’ রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে।’

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে দশ বছরের রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে একটা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই রেল, সড়ক, আকাশ, নৌপথ সবদিকেই আমরা দৃষ্টি দিয়েছি এবং উন্নয়ন করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পঞ্চগড় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রেলের উন্নয়নে গত দশ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপরই পঞ্চগড় থেকে ঢাকার পথে রওনা হয় ৮৯৬ আসনের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। সপ্তাহে কোনো বিরতি ছাড়া সাত দিনই চলাচল করবে ট্রেনটি। ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ১০ মিনিটে। পঞ্চগড়ে পৌঁছবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। আবার পঞ্চপড় থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে সামান্য বিরতি দেবে। তারপর পার্বতীপুর পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে। এরপর দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিরতি দিয়ে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছাবে। ভাড়া হবে শোভন চেয়ার ৫৫০ টাকা, স্নিগ্ধা ১০৫৩, এসি সিট ১২৬৩ এবং এসি বার্থ ১৮১২ টাকা। এই ট্রেন থেকে বছরে ৪০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে রেলওয়ে।

সেতু উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘দ্বিতীয় মেঘনা সেতু’ এবং ‘দ্বিতীয় গোমতী সেতু’র উদ্বোধন করেন।’ একই সময় প্রধানমন্ত্রী কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতুরও উদ্বোধন করেন। জনসাধারণের ঈদযাত্রার সুবিধার্থে ৩১ মে কাঁচপুর সেতুর পূর্বাংশের ওভারপাস খুলে দেওয়া হবে।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক এবং কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেন।

ক্ষমতা ভোগের বস্তু নয় সেবা করার সুযোগ : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে। প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে। তিনি বলেন, আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু নয়, মানুষের সেবা করার সুযোগ। সেই কথা চিন্তা করেই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। গতকাল বিকালে গণভবনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে তাঁর দেওয়া ইফতার মাহফিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশকে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের সহযোগিতা চাই, যেন আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে পারি। আগামী ঈদে মানুষ নিরাপদে থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ভালোভাবে কাজ করছে। অনেক কষ্ট করে তারা দেশের মানুষের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা উন্নত দেশ গড়তে কাজ করছি। এখন ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মানুষের জীবন উন্নত হচ্ছে। দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি। আগামীতে বাংলাদেশে হতদরিদ্র বলে কেউ থাকবে না। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন প্রথম ক্ষমতায় আসি, তখন বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকার। আগামী জুন মাসে যে বাজেট দিতে যাচ্ছি তা ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নটা গ্রামেও পৌঁছে যাচ্ছে।

দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুব দুঃখিত, এবারে হয়তো ঈদে আমি দেশে থাকব না। কারণ আমার বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর রয়েছে। আমি জাপান যাচ্ছি। সেখান থেকে সৌদি আরবে ওআইসি সম্মেলনে যাব। সেখান থেকে ইংল্যান্ড যাব। সেখান থেকে ৭ তারিখে দেশে ফিরব। ঈদে যেহেতু থাকতে পারব না, তাই এই ইফতার মাহফিল থেকে সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, জাতির পিতার লক্ষ্যই ছিল শোষিত মানুষের বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিয়ে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। অর্থাৎ মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা পায়। মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। সেটাই লক্ষ্য ছিল। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, যেখানে কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না, খাদ্য ছিল না। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি দেশটাকে গড়ে তুলেছিলেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাব্যবস্থা করেছিলেন। শহীদ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। নির্যাতিত মা-বোনদের একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন। ১ কোটি শরণার্থীকে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনসহ প্রতিটি কাজ তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে করেছিলেন। তিনি বলেন, আজকে আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। এটা জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন করে গিয়েছিলেন। স্থলসীমানা আইন পাস করে দিয়ে যান। যে কারণে সুন্দরভাবে আমরা ছিটমহল বিনিময় করেছি। যেটা ভারতের পার্লামেন্টে সব দল পাস করে দেয়। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রীর এ ইফতারে রাজনীতিবিদদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় এমপিরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভামঞ্চে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ, জিএম কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির শেখ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের মিসবাহুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য