Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৪৭

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র, প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা

দফতর বণ্টনে মোদির চমক

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র, প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভা গঠনের মতো দফতর বণ্টনেও চমক দিলেন। পূর্বাভাস অনুযায়ী সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন। রাজনাথ সিংয়ের পরিবর্তে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন। রাজনাথ হলেন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। নির্মলা সীতারমণ হলেন ভারতের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী। স্মৃতি ইরানি এবার বস্ত্র ছাড়াও অতিরিক্ত দফতর হিসেবে পেলেন নারী কল্যাণ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাবুল সুপ্রিয় হলেন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যতম দেবশ্রী চৌধুরী নারী কল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। নীতিন গড়কড়ি হলেন পরিবহন ও ক্ষুদ্রশিল্প দফতরের মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে থাকবে

 পরমাণু ও মহাকাশ ছাড়া সব মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ। প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে নতুন ৫৮ মন্ত্রী নিয়োগ করেন। তার নেতৃত্বের প্রথম সরকারের মোট ৪২ জন মন্ত্রীকে বাদ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ যারা এবারের মন্ত্রিসভায় নেই তাদের মধ্যে রয়েছেন অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, সুরেশ প্রভু, উমা ভারতী, মানেকা গান্ধী। এর মধ্যে মানেকা গান্ধী অস্থায়ী স্পিকার নিযুক্ত হবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ তিনি করাবেন। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে পীযূষ গোয়েল হলেন রেলমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী, রবিশংকর প্রসাদ হলেন আইনমন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী হলেন রমেশ পোখরিয়াল নিশাংক। পানির ওপর নতুন মন্ত্রণালয় হয়েছে। তার মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াত। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মন্ত্রী করা হয়েছে জিতেন্দ্র সিং-কে। সেই সঙ্গে তাকে দেওয়া হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। গত মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে দেওয়া হয়েছে যুব ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন। হরদীপ সিং পুরী পেয়েছেন আবাসন, অসামরিক বিমান পরিবহন। সন্তোষ কুমার শ্রম ও পরিবেশ দফতর।

রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে বাংলা থেকে আছেন দুজন সংসদ সদস্য। গত মন্ত্রিসভায় ভারী শিল্পের দায়িত্বে থাকা বাবুল সুপ্রিয়কে দেওয়া হয়েছে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং দেবশ্রী রায় চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এ ছাড়াও গত মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ভিকেসিংকে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জি. কিশান রেড্ডি ও নিত্যানন্দ রাইকে। অনুরাগ ঠাকুরকে দেওয়া হয়েছে অর্থ ও করপোরেট মন্ত্রালয়ের দায়িত্ব। রামদাস আটোয়ালকে সামাজিক ন্যায়, অশ্বিনী কুমার চৌবেকে সংসদবিষয়ক ও ভারী শিল্প দফতর। গত মন্ত্রিসভায় দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অর্থ এবং পররাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করা অরুন জেটলি ও সুষমা স্বরাজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। অরুন জেটলি নিজেই মন্ত্রিসভায় থাকবেন না বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে সুষমা অসুস্থ হলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেননি মন্ত্রিসভায় থাকবেন না। তবে এবারের মন্ত্রিসভায় মোদির সব থেকে বড় চাল হলো জয়শংকরকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে এই দক্ষ কূটনীতিককে মন্ত্রিসভায় শামিল করার নেপথ্যে কাজ করেছে মোদির ক্ষুরধার বুদ্ধি ও কুশলী চাল। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য চিনা ড্রাগনের দাপাদাপি হ্রাস করা।  মন্ত্রণালয় বণ্টনের পরই দুপুর থেকেই ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা নিজের দফতরে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন। এরপর বিকালের দিকে সাউথ ব্লকে মোদি মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক বসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সব ক্যাবিনেট মন্ত্রীই। মোদির ঠিক বাম দিকেই ছিলেন অমিত শাহ, ডানদিকে রাজনাথ সিং। এদিনের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে অন্যতম ভারতকে রক্ষা করা ব্যক্তিদের জন্য উৎসর্গ করা। মাওবাদী ও জঙ্গি হামলায় নিহত শহীদ পুলিশ পরিবারের সন্তানদের জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিলের আওতাধীন স্কলারশিপের অর্থ বৃদ্ধি করা। মোদি নিজেও ট্যুইট করে এই বিষয়টি জানান। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপলা সিরিসেনা, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ কুমার জুগনৌথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে তেশরিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মোদি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর