Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ জুন, ২০১৯ ২৩:৪৫

পাইলটের পাসপোর্টকান্ড

শাহজালালের এসআই বরখাস্ত চলছে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহজালালের এসআই বরখাস্ত চলছে তদন্ত

বিমানের পাইলট ফজল মাহমুদ চৌধুরীর পাসপোর্ট না  দেখে কাতারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ইসমাইল হোসেন বলেন, অসচেতনতা ও দায়িত্ব পালন না করার কারণে এসআই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শনিবার এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন রাতে ফ্লাইটে যাওয়ার আগে ফজল মাহমুদের কাছে পাসপোর্ট আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনিও ব্যাগে পাসপোর্ট থাকার কথা জানান। বিমানের পাইলট ও ক্রুরা যেহেতু নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাই সরল বিশ্বাসে ক্রু আইডি দিয়ে পাইলট ফজল মাহমুদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। আসলে তার পাসপোর্ট দেখানো উচিত ছিল। অন্যদিকে এসআই কামরুজ্জামানেরও ওই পাইলটের পাসপোর্ট দেখে ইমিগ্রেশন করানো উচিত ছিল। এই অসচেতনতার কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, পাইলট ভুল করে পাসপোর্ট নেননি।’ তিনি বলেন, ‘পাইলট ভুল করেই এটা করেছেন। বিমানবন্দরে দুই-তিন জায়গায় চেক হয়। তারপরও তিনি চলে গেছেন। আমাদের ইমিগ্রেশনে তিনি ফিংগার প্রিন্ট দিয়েছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ জেনারেল ডিক্লারেশন দেখেছেন। পাসপোর্ট দেখতে চাইলে সবসময় পাইলটরা বলেন, পকেটে আছে। এরপরও আমাদের ইমিগ্রেশন পুলিশের গাফিলতির কারণে ইতিমধ্যে তাকে সাসপেন্ড করেছেন পুলিশ প্রধান। এখানে গাফিলতি হয়েছে। তবে আমি বলব, এটি প্রধানমন্ত্রীর বিমান, তাই এই ভুলটা করা পাইলটের উচিত হয়নি। ইমিগ্রেশন পুলিশেরও উচিত ছিল পাসপোর্ট দেখা। এমন গাফিলতির কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর বিস্তারিত আরও জানা যাবে।’ গত ৫ জুন রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিয়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা করেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ফ্লাইট অবতরণের পর নিজের পাসপোর্ট খুঁজে পাননি ফজল মাহমুদ। তার দাবি, ভুল করে অন্য একটি ব্যাগে থাকা পাসপোর্টটি দেশে রেখে এসেছিলেন। পরে  দেশ থেকে পাসপোর্ট পাঠানোর পর কাতারে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ফজল মাহমুদকে আটক করেছে। তবে বিমানের পক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়নি উল্লেখ করে শুক্রবার ব্যাখ্যা  দেওয়া হয়। তবে পাসপোর্ট না থাকায় কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ‘আটক’ হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।


আপনার মন্তব্য