Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৯ ২৩:১১

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি কোনো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি কোনো সরকার
রেহমান সোবহান

সিপিডির চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কোনো সরকারই নির্বাচিত হওয়ার পর তার নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দেয়নি এবং তা শতভাগ বাস্তবায়ন করেনি। এবারের বাজেটেও সেটাই হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত বাজেট সংলাপ-২০১৯ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। রেহমান সোবহান বলেন, বাজেটে কত ব্যয় হলো, কত বরাদ্দ হলো, আমরা শুধু সেসব বিষয়ে আলোচনা করি। কিন্তু বাজেটের সুফল কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাল সে বিষয়ে আলোচনা হয় না। দেশে অসমতা বাড়ছে, বৈষম্য বাড়ছে এ বিষয়গুলো নিয়ে বাজেট প্রস্তাবনায় কিছু নেই। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাই, চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ীকে ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের পাঁচ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নিয়ে আসা সম্ভব। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থী। এটা নিয়মিত করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে। ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক খাত থেকে যে ৪৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই বাজেটে। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বৈষম্যহীন কোনো সমাজ পাওয়া যাবে না। সবখানেই বৈষম্য রয়েছে। এটা আগেও ছিল। আর আমরা যেহেতু একটা উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছি, এ সময় বৈষম্য একটু বাড়বেই। তিনি বলেন, আমরাই সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলি। লেকশোর মতো হোটেলে বসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা যায় না। তাদের সঙ্গে মিশতে হলে হাওরে যেতে হবে। গ্রামে যেতে হবে। আমরা সেটাই করছি। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, এ বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে এটা ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট, ব্যবসাবান্ধব নয়। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই, তাদের জনগণের প্রতি কোনো জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নেই। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। ব্যাংক খাত থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, খেলাপি ঋণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ধনী বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। আর দরিদ্র বৃদ্ধিতে বিশ্বে পঞ্চম। ফলে ধনী-দারিদ্র্যের বৈষম্য বাড়ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এতে সংস্থার গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, এনজিও কর্মী, সাবেক আমলা প্রমুখ অংশ নেন।


আপনার মন্তব্য