Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৯ ২২:৫৯

সিগন্যাল পেলেই তিন সিটিতে ভোট

তিন পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি ইসির। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে হতে পারে তফসিল। ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত। প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা আওয়ামী লীগ বিএনপিতে

গোলাম রাব্বানী

সিগন্যাল পেলেই তিন সিটিতে ভোট

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা। মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। তবে সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তিন সিটির ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে কমিশন। ঘোষণা করবে নির্বাচনের তফসিল। এ ক্ষেত্রে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে ভোট করার প্রাথমিক চিন্তা রয়েছে কমিশনের। আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হলে ১৭ নভেম্বরের পর তফসিল ঘোষণাও হতে পারে। এ ছাড়া তিন সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল এক দিনে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটিতে সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যে কোনো সময় ভোট করতে হবে। সে হিসেবে নভেম্বরের মাঝামাঝি নির্বাচন-উপযোগী হবে ঢাকার দুই সিটি। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভোটের বিষয়ে তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুধু ঢাকা উত্তর, দক্ষিণে ভোট; দ্বিতীয়ত, জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট দিয়ে মার্চে চট্টগ্রামে ভোট; তৃতীয়ত, মার্চ-এপ্রিলে তিন সিটিতে একই দিনে ভোট করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের ওপর।

ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট করতে হলে ১৭ নভেম্বর বা এরপর ইসিকে নির্বাচনের তফসিল দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন ৩৮ থেকে ৪২ দিন সময় পাবে। সূত্র জানিয়েছেন, ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটিতে ভোট করার চিন্তাও রয়েছে ইসির। এ ক্ষেত্রে ৪২-৪৩ দিন হাতে রেখেও কমিশন ১৭ নভেম্বরের মধ্যে তফসিল দিতে পারবে। ইসি সচিবালয় তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারা ভোটার তালিকার নানা বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখছে। ডিসেম্বরে ভোট হলে পুরনো ভোটার তালিকা দিয়ে যাতে ভোট করা যায় সে প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। আর মার্চ-এপ্রিলে ভোট করতে হলে নতুন ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।

ইসির নির্বাচন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী বছরের এপ্রিলের দিকে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটিতে একই দিনে ভোট করার চিন্তাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ মার্চ ভোটার দিবস। তাই ভোটার দিবসের পরপর মার্চের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দেওয়ার জন্য ইসির কাছে প্রস্তাব দিতে পারে ইসি সচিবালয়। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। গত ৫ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটির সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আসন্ন তিন সিটি ও পৌরসভার ভোটে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ইভিএমের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত : ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তিন সিটি নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে এ নির্বাচন হবে।’ এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

যথাসময়ে তিন সিটি নির্বাচন : তিন সিটি নির্বাচনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যথাসময়ে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য নির্বাচন হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।’


আপনার মন্তব্য