শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৩৪

আরও বিনিয়োগের অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার

বাংলাদেশের সঙ্গে চার চুক্তি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি ন্যাক-ইয়ন। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী আমরা।’ গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান লি ন্যাক-ইয়ন। পরে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় দুই সমঝোতা স্মারক ও একটি বিনিময়পত্র। দুপুরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় আরেকটি সমঝোতা স্মারক। তিন দিনের সফরে ঢাকা আসা অতিথি প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আজ সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

গতকাল বিকালে লি ন্যাক-ইয়ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। তিনি কার্যালয়ের টাইগার গেটে পৌঁছলে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে বসেন। একান্ত বৈঠকের পর শেখ হাসিনা ও লি ন্যাক-ইয়নের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় সমঝোতা স্মারক ও একটি বিনিময়পত্র। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার জন্য কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি অব সাউথ কোরিয়া ও ফরেন সার্ভিস একাডেমি অব বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক। এ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির (কেওটিআরএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় আরও একটি সমঝোতা স্মারক। আর সংস্কৃতি বিনিময়ে নথি সই করে দুই দেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপর দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে কোরীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এফবিসিসিআই ও কেআইটিএর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং কেআইটিএর চেয়ারম্যান ইয়াং জু কিম স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতা স্মারকের আগে কোরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (কেআইটিএ) এই বিজনেস ফোরামের আয়োজন করে। সকালে ফোরামের শুরুতে কোরীয় সরকারের নতুন দক্ষিণ নীতি ও কোরিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতা কৌশল এবং কোরিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার সর্বোত্তম চর্চা বিষয়ে দুটি সেশন হয়। প্রথম সেশনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য নাভাশ চন্দ্র ম ল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কেটি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডল সুন জু প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দ্বিতীয় সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেইপিজেডের সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদাত এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল কবির। দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কোরীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর দেশ দুটির মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশে ষষ্ঠ বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় শিল্প মন্ত্রণালয় তাদের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র জানায়, দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা শেষে নতুন ক্ষেত্র খোঁজার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে কোনো ক্ষেত্রে আগের মতোই সর্বোচ্চ সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। জানানো হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯৩ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি করে এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৯৮১ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস, ফুটওয়্যার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মূলত সড়কপথের যানবাহন, বিমান, জাহাজ এবং এ-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ, ধাতু, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং রাসায়নিক পণ্য আমদানি করা হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি ন্যাক-ইয়ন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গতকাল সকালে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বীর শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে লি সেখানে পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।


আপনার মন্তব্য