শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০১:৫৩

জিজ্ঞাসাবাদের পর রিফাত হত্যায় মিন্নি গ্রেফতার

বরগুনা প্রতিনিধি

জিজ্ঞাসাবাদের পর রিফাত হত্যায় মিন্নি গ্রেফতার

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারের বিষয়টি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর আগে বেলা ১১টা থেকে প্রায় আট ঘণ্টা পুলিশ লাইনে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশ্য এর আগে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেছিলেন, তাকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি, শুধু জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে।

গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম মিন্নিকে বরগুনা পৌর শহরের মাইঠা এলাকায় তার বাবার বাড়ি থেকে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। এ সময় সঙ্গে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরকেও নিয়ে আসা হয়। তবে বেলা ১১টার পর মিন্নির কাছ থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই সময় মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আসামি শনাক্ত ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্নি ও আমাকে সকালে বাসা থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বেলা ১১টার দিকে আমাকে মিন্নির কাছ থেকে আলাদা করে নেয়। এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি আর কিছু আমি জানি না।’ বেলা ১টার দিকে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন মিন্নির জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং তার বাবাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য এনেছেন।’ তাকে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার কিংবা আটক করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে এখন পর্যন্ত আমরা গ্রেফতার বা আটক করিনি। শুধু জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আনা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তে যদি এমন কিছু উঠে আসে, তখন সে অনুযায়ী আমাদের যা করণীয় তা করব।’ এর আগে ১৩ জুলাই মামলার বাদী নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছেলে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মিন্নির গ্রেফতার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হালিম দুলাল শরীফ অভিযোগ করেন, ‘রিফাত হত্যাকান্ডের নতুন ভিডিও ফুটেজ দেখে আমি ধারণা করছি, আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত।’ এর পরই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ১৪ জুলাই তার বাবার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বরগুনায় যারা ০০৭ গ্রুপ সৃষ্টি করেছেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থশালী। তারা রিফাত হত্যার বিচারকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য আমার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। খুনিদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

‘কারও যোগসাজশে আমার মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে’ : মেয়েকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। আমি মনে করি, কারও যোগসাজশে আমার মেয়েকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দেখেছে আমার মেয়ে স্বামীকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে।’ রিফাত শরীফ হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেফতারের পর এসব কথা বলেন মোজাম্মেল হোসেন। ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


আপনার মন্তব্য