শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫০

ডিসি সম্মেলন শেষ

ব্যাংক দেওয়ার আশ্বাস, আলাদা পুলিশ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিসি সম্মেলনে শেষ দিনে ডিসিদের দেওয়া আলাদা পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা ব্যাংক গঠনের যে প্রস্তাব ডিসিরা দিয়েছিলেন তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনের ডিসি সম্মেলন গতকাল শেষ হয়েছে। শেষ দিনে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। পঞ্চম ও শেষ দিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্য-অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডিসিদের সঙ্গে পরামর্শ করে একযোগে কাজ করে। তাই ডিসিদের জন্য বিশেষ ফোর্সের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা। সেই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে বলা হয়েছে ডিসিদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জেলায় কী কী সমস্যা হয় সেগুলো ডিসিরা জানিয়েছেন। প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনে তারা একইভাবে সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ডিসিদের পক্ষ থেকে একটি আলাদা ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বলেছি, সেটা আমরা বিবেচনা করব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে গণশুনানি আরও কত কার্যকরভাবে করা যায় সে বিষয়ে ডিসিদের উদ্যোগ নিতে বলেছি। ডিসি অফিসগুলোকে পুরোদমে ডিজিটালাইজড করার জন্য বলেছি। সেই সঙ্গে জেলা হাসপাতাল ও পাসপোর্ট অফিসগুলোকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধিবেশনে এর আওতাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যদের সঙ্গে ডিসিদের আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শুধু মামলা করা নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন করা। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম অপরাধ না। তবে সরল বিশ্বাস যেন সরল বিশ্বাসই হয়, তা নিশ্চিত হতে হবে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দিতে হবে। আগামী প্রজন্ম, যাদের ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বর্তাবে, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ যদি তাদের মধ্যে গড়ে তোলা না যায়, তবে কোনো কিছুই টেকসই হবে না। প্রথমবারের মতো এবার ডিসি সম্মেলন ছিল পাঁচ দিনের। এবারের সম্মেলনে নতুন করে যুক্ত হয় প্রধান বিচারপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর বাইরে এবারই প্রথম তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও ডিসিদের বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে বিকালে জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডিসিরা। এরপর রাতে রেওয়াজ অনুযায়ী ডিসিদের সৌজন্যে ডিনার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের সম্মেলন।


আপনার মন্তব্য