শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২০

অক্টোবর সম্মেলন নিয়ে সংশয়

বন্যা ডেঙ্গু গুজব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি আওয়ামী লীগের শেষ হয়নি জেলা থানা সম্মেলন ও কাউন্সিলর তালিকা

রফিকুল ইসলাম রনি

অক্টোবর সম্মেলন নিয়ে সংশয়

আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবরে। গত এপ্রিলে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সিদ্ধান্ত ছিল যথাসময়েই সম্মেলন করা হবে। সে হিসেবে আর মাত্র দুই মাস পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই দলটির। দলের নেতারাই সংশয়ে আছেন, চলতি বছর সম্মেলন অনুষ্ঠান নিয়ে। তারা বলছেন, মাত্র সাত দিনের নোটিসে আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার সক্ষমতা আছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে ডেঙ্গু, বন্যা পরিস্থিতি ও গুজব মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কাউন্সিলরদের হালনাগাদ তালিকা, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও প্রয়োজনীয় প্রকাশনীর কাজ শুরু না হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে অক্টোবরে সম্মেলনের প্রস্তুতিতে ভাটা পড়েছে। দলটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সে হিসেবে আগামী ২৩ অক্টোবর শেষ হচ্ছে তিন বছরের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। প্রতিবার সম্মেলনের আগে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র হালনাগাদ করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মার্চে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে থমকে যায় গঠনতন্ত্র সংশোধন ও হালনাগাদের পদক্ষেপ। প্রায় আড়াই মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফিরলেও ব্যস্ততায় এ-সংক্রান্ত উদ্যোগ সম্ভব হয়নি। সূত্র জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময় অক্টোবরে সম্মেলন করা না গেলে এ সময় বিশেষ কাউন্সিল ডেকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সারা দেশ থেকে সাড়ে ৬ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। দলের জেলা কমিটির নির্বাচিত নেতারা হলেন জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলর। দলের গঠনতন্ত্রে প্রতি ২৫ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন কাউন্সিলর নির্বাচনের বিধান আছে। অক্টোবরে সম্মেলন হলে এরই মধ্যে কাউন্সিলরদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে যেত। সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলন যে পিছিয়ে যাচ্ছে এমন আভাসই মেলে। অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নিউইয়র্কে যাবেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিরবেন সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের প্রথমে। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার চিন্তা আছে সরকারের। যে কারণে সম্মেলন নিয়ে নেতাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘মাত্র সাত দিনের নোটিসে আওয়ামী লীগ সম্মেলন করার সক্ষমতা রাখে। অক্টোবরে সম্মেলনের কোনো প্রস্তুতি দেখছি না। সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরেও হতে পারে। আর যদি ডিসেম্বরে কোনো কারণে সম্মেলন না হয় তাহলে দুই বছরের মধ্যে হবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।’ সূূত্রমতে, প্রতিটি সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে সাংগঠনিক সফরের জন্য দলের আটটি টিম গঠন করা হয়। ঈদুল ফিতরের আগেই দু-একটি জেলায় সফরেও যান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনো পূর্ণাঙ্গরূপে শুরু হয়নি। এবার হাতে গোনা দু-একটি থানা ছাড়া এখনো কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে দেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ নেতারা সরব রয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছে বন্যা ও গুজব। এ দুই ইস্যুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এতে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বড় হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, লন্ডনে চিকিৎসা শেষে আজ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। তিনি দেশে ফেরার পর কবে নাগাদ সম্মেলন হবে তা চূড়ান্ত করা হবে। ওই নেতারা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে অক্টোবরে সম্মেলন না হলে নভেম্বরে করতে হবে। আর কোনো কারণে নভেম্বরে করা না গেলে দুই বছর পিছিয়ে যেতে পারে। এই নেতাদের যুক্তি, ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে। সে কারণে ডিসেম্বরে সম্মেলন হবে না। অন্যদিকে ২০২০-২১ সাল মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে টানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নন দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অক্টোবরেই সম্মেলন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করবেন। তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’


আপনার মন্তব্য