শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৬

নতুন মাত্রায় অভিযান

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও গডফাদার এমপিদের বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত

জুলকার নাইন

নতুন মাত্রায় অন্যভাবে চলমান থাকবে অভিযান। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত আমলা ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গডফাদার সেজে থাকা দুর্নীতিবাজ এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পৃথক তদন্ত চলছে। ক্যাসিনো-কান্ডে ইতিমধ্যে ৪৩ জনের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে দুদক। সংসদের হুইপ সামছুল হক চৌধুরী ও এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নামও রয়েছে তালিকায়। ঢাকার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও তালিকায় আছেন। এর বাইরে গত ছয় মাসে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত করেছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে কয়েকজনকে। জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকেও খবর নেওয়া হয়েছে। এবার শুরু হবে অ্যাকশন। কোনো ধরনের ছাড় দেবে না দুদক। অভিযানের এমন মাত্রা বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেতের কথা গতকাল উঠে এসেছে দুই মন্ত্রীর কণ্ঠেও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমরা দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। যেখানেই দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি, সেখানেই চলবে অভিযান।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দুদককে বলা আছে, কমিশন যে-কারও ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।’ জানা যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই বিভিন্ন সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযানে সফলতা এসেছে। সফলতা আসতে শুরু করেছে সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে। আরও কয়েকটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভাঙতে অভিযান আরও চালাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসায় এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন। তাদের বিষয়ে জানতে এনবিআর, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের অর্থ-সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা এসব নেতা ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংকেতও পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। পরদিনই বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসানও বৈঠক করেছেন দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে। এ সময় দুদক চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয় গোয়েন্দাতথ্য ও প্রমাণ।

সূত্র জানায়, ক্যাসিনো-কা  ছাড়াও বিদেশে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমে বাড়ি নিয়েও তদন্ত করছে দুদক। এ তালিকায় আছে ঢাকা, খুলনা, নরসিংদী, পিরোজপুর, বরগুনার কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক এমপির নাম, সাবেক দুই মন্ত্রীর সন্তান ও স্বজন, আছেন ক্ষমতাসীন দলের মহানগর পর্যায়ের কমিটির একাধিক নেতা ও স্ত্রী, আছে সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার নাম। ঢাকার বাইরের স্থানীয় সরকারের কয়েকজন জনপ্রতিনিধির নামও আছে তালিকায়। এদের বিষয়ে ইতিমধ্যে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এখন পর্যালোচনা শেষেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানি লন্ডারিং মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের আইনি অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন তারা। এর বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে নথিভুক্ত একাধিক তদন্ত ফের সচল করা হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলের পদ-পদবি ভাঙিয়ে যারা দুর্নীতি করেছেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা শেষেই আটক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সূত্র জানায়, ক্যাসিনো-কান্ডে  প্রথম তালিকায় আনা ৪৩ জন থেকে বেড়ে এ সংখ্যা অর্ধশত হতে পারে। প্রথম তালিকার ৪৩ জনের বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত পাঁচ বছরে কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে সেই তথ্য এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান টিমে কাজ করছেন দুই উপপরিচালক, এক সহকারী পরিচালক ও এক উপসহকারী পরিচালক। মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুদকের এক মহাপরিচালককে। দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেছেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা থেকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্টদের নাম ও তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে, পত্রপত্রিকা, নিউজ চ্যানেলে আসা সংবাদ সংগ্রহ করে তাদের তথ্য নেওয়া হয়েছে। সে অনুসারে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’ সচিব বলেন, অবৈধ সম্পদের মালিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ মিললে ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।        


আপনার মন্তব্য