Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৮

সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন

প্রতিদিন ডেস্ক

সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে
গণভবনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যন্ত যেন সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয় সে জন্য একটি সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। যার সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চার লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভার, সেতু এবং বাইপাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসস। উদ্বোধনকৃত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কের ৭২তম কিলোমিটারে বানার নদীর ওপর ২৮২ দশমিক ৫৫৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ, ভোমরা স্থলবন্দর সংযোগসহ সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক এবং মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগধীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুসমূহ (১৩টি সেতু) স্থায়ী কংক্রিট সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী যানবাহন চালক, পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সবাইকে রাস্তায় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। অহেতুক একটি প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যানবাহন চালকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা ঘটবে। সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সড়ক কত বড় বা ভারী যানবাহন চলতে পারে সে বিষয়টা একটু খেয়াল রাখা দরকার। কারণ অনেক সময় অনেকে এই বিষয়টি মানতে চান না। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করেছি। কাজেই যারা রাস্তায় চলাচল করেন তারা যখন রাস্তা পার হবেন তখন ডান এবং বাম এই দুইদিকে দেখে সচেতনভাবে পার হতে হবে। আবার রাস্তায় যারা যানবাহন গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন তাদেরও সচেতন হতে হবে। বাস, ট্রাক চালকদেরও সচেতন হতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু চালককে দায়ী করলে চলবে না, বরং কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল সে জন্য যে পথচারী এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানের যে চালক তারও কী ভুল আছে সেটাও কিন্তু দেখা দরকার। সেজন্য আমি বলব চালক থেকে শুরু করে যারা সড়ক ব্যবহারকারী সবারই সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো নানা দুঃখ-কষ্টের শিকার হয়,  কেউ মারা যায়, কেউ পঙ্গু হয়ে থাকে, বিভিন্নভাবে তাদের জীবন-মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই এই দিকটা সবাইকেই দেখতে হবে। তিনি এজন্য স্কুল পর্যায় থেকেই সড়কে চলাচলের আইন প্রশিক্ষণ দেওয়ার তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাস্তার কোন দিক থেকে হাঁটতে হবে, তাও একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কখন পার হতে হবে তাও শিক্ষণীয় বিষয়। আমি মনে করি, আমাদের প্রতিটি স্কুলে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্কুলজীবন থেকে এই শিক্ষাটা দেওয়া একান্ত দরকার।

বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের জনবান্ধব রেলকে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ হলো এদেশের সাধারণ এবং মধ্যবিত্তের অন্যতম একটি চলাচলের মাধ্যম। যারা ক্ষমতায় ছিল (বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার) তারা রেলকে ধ্বংসের এবং একে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তিনি বলেন, ‘রেল যোগাযোগটা যাতে আরও উন্নত হয় তার ব্যবস্থা হিসেবে আমরা উত্তরবঙ্গসহ সমগ্র বাংলাদেশেই রেল যোগাযোগ স্থাপনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি।’ এ সময় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের সময় তাতে রেললাইন স্থাপনসহ সেতুটিতে বহুমুখীকরণে তাঁর সরকার উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই রেললাইন স্থাপনের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের রাজধানী ঢাকার ভালো যোগাযোগের সুব্যবস্থা হয়ে যায়।’ তিনি এ সময় চিলমারী বন্দর পুনরায় চালুকরণসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার প্রসার এবং সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এবং লালমনিরহাটে একটি অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এরোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর সরকার সেখানে প্লেন তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতিটাও প্রয়োজন। আর যেন উত্তরবঙ্গবাসীকে মঙ্গা শব্দটা শুনতে না হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।’ অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং রেল বিভাগের উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন এবং ভিডিওচিত্র পরিবেশন করেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বক্তব্য শেষ করে বাঁশি ফুঁকে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুর ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপন করেন শেখ হাসিনা।


আপনার মন্তব্য