Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৭

বিএনপির ব্যস্ততা যুব-স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে

পদপ্রত্যাশীদের ঢাকা লন্ডন দৌড়ঝাঁপ

মাহমুদ আজহার

বিএনপির ব্যস্ততা যুব-স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে

আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইভাবে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন তিনি। এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের। অনেকেই ঢাকার প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসাবাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের পর আবারও জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট জেলা ও মহানগর এবং ফেনী জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক ৮১টি জেলার মধ্যে ১৯টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আংশিক কমিটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে ৯টি জেলায়। সূত্রমতে, স্বল্প সময়ের জন্য যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এরপর আবারও এই দুটি সংগঠন ঢেলে সাজানো হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ছাত্রদলের পর এবার যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের পালা। আশা করছি, শিগগিরই এই দুটি সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।’

যুবদল সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজও শুরু করেছেন। যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৮০টিতে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বাকিগুলো আংশিক কমিটি। সিলেট জেলা ও মহানগরে কমিটি হয়নি। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্রে ২১১ সদস্যের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ছিল ২৭১ সদস্যের কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির হাইকমান্ড বলেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের কমিটিই করতে হবে। এ প্রসঙ্গে গতকাল যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলের হাইকমান্ডের নতুন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটি করার চিন্তাভাবনা করছি। বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা যুব ও সাবেক ছাত্রনেতাদের দিয়েই কমিটি করা হবে। কমিটি নিয়ে কাজ চলছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের মধ্যে কমিটি সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশা করছি। স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির ৮১টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। ৩০টি জেলায় আংশিক কমিটি। বাকি ছয়টি জেলায় নতুন করে কমিটি দেওয়া হবে। আংশিক কমিটিগুলোও দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ করা হবে। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর যত দ্রুত সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নানাবিধ কারণে যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এখন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চাই। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন ঘিরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন সরগরম। বিশেষ করে সকাল-বিকাল যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয় নয়াপল্টন কার্যালয়। দুই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও নেতা-কর্মীরা বসছেন। দীর্ঘ সময় আড্ডা দিতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের আনাগোনাও আছে নয়াপল্টনে। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাত সদস্যের কমিটিতে শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি আর সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই সংগঠনকেই এক মাসের সময়সীমা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আংশিক কমিটি দিয়েই দুই সংগঠনের তিন বছরের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর