শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৫

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

যারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়, কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় এক ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি হয় এবং দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়। তারপরও এমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। কেউ যদি আমাদের নবী করিম (সা.)-এর বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে, তখনই একটা শ্রেণি আছে নানাভাবে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সেজন্য আমি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, ভোলায় ফেসবুক হ্যাক করে যে বা যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, যার ফেসবুক হ্যাকিং করেছে তাকে আবার ফোন করে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে। ২০ হাজার টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সব কথা লিখবে যা তার জন্য ক্ষতি হবে। এ কথাটা পাওয়ার পরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে গেছে। সে সেখানে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও সেখানে তাকে কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ফেসবুক আইডি হ্যাকিং হলে পরে ফেসবুক অপারেটর যারা তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা সমগ্র তথ্য জোগাড় করতে পারব। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে। যারা ফেসবুকে এই হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাকিং করে তার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তার নাম করে যে কথাগুলো লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে নবী করিম (সা.) কে নিয়ে এ ধরনের বাজে কথা লিখে? এবং আরেকজনকে জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সেই কথা ধরে সেখানকার লোক একজন পীর সাহেব আছেন বেশ কিছু লোককে তিনি জড়ো করেন। যখন পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলো করবেন না, আমরা গ্রেফতার করেছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তখন পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়। তিনি বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, যে আইডিটা হ্যাকিং করল, এ ধরনের ঘটনা ঘটাল আর সেটাকে কেন্দ্র করে যারা কী উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হলো এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করল সেটাই বড় কথা। এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? এদের উদ্দেশ্য কী? 

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদেরও আমরা খুঁজে বের করব। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও আছে। এটা ধরা পড়বে। কারণ, এই ছেলে যদি টেলিফোন করে টাকাটা না চাইত তাহলে তাকে খুঁজে বের করা মুশকিল হতো। মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করবেন না, যা একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদের দেখান। কেন এভাবে আরেকজনের আইডি চুরি করবে। তাকে শেষ করে তার কাছে চাঁদা চাইবে আর টাকা দিতে না পারলে তার নাম করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাবে। আর সেটাও চালাবে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বা মহানবীর বিরুদ্ধে। এই অপরাধীদেরই শনাক্ত করা দরকার এবং তাদের জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। আমি এটুকুই বলব, এ ধরনের অনেক চক্রান্ত আমার বিরুদ্ধে সবসময় হয়ে থাকে। সরকারপ্রধান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যেমন মানুষ ভোগ করছে, সেরকম এর কুফলও ভোগ করছে। গুজবে কান না দিয়ে সঠিক বিষয় জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কাজেই সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সম্মানের সঙ্গে বাস করবে। এটাই আমাদের দেশের একটা নিয়ম এবং এটাই আমরা চাই যে বাংলাদেশ যেন একটা শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠে। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যতগুলো সহযোগী সংগঠন আছে তাদের সবার যেন একে একে সম্মেলন হয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছি। অনেক সময় নানা কারণে সম্মেলন দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। এ ক্ষেত্রে যাকেই অপরাধী হিসেবে ধরা হবে তার কোনো ক্ষমা নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। কারণ আমরা যখন দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষের ভিতরে একটা লোভের সৃষ্টি হয়। যার ফলাফল আমাদের সমাজটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এ ধরনের অন্যায়-অবিচার বরদাস্ত করা হবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর