শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৪

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্‌যাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্‌যাপিত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবিবার ১২ রবিউল আউয়াল রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী উদ্‌যাপন করা হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। আল্লাহর প্রিয় হাবিব, নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বে দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে রবিবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী জশনে জুলুস, শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়। মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও দরবার শরিফে মিলাদ, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করা হয় এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি, জনগণের কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা  হয়। রাজধানীর সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় ও কালিমা তাইয়িবা খচিত পতাকা দিয়ে সজ্জিত এবং রাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জা করা হয়। দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। ওই দিন বাদ আসর বঙ্গভবনের দরবার হলে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, মুখ্যসচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিকরা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। শাহজাহানপুর থেকে জশনে জুলুসের শোভাযাত্রা বের হয় সৈয়দ মজিবুল বশর আল হাসানি আল হোসাইনি মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে। পরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কমলাপুর রেলস্টেশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আশেকানে মোস্তফা। পরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। গুলিস্তান কাজী বশির মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া শহিদিয়া মাইজভান্ডারী। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবারের উদ্যোগে সদরঘাট মোড় থেকে বের করা হয় জশনে জুলুস। এ উপলক্ষে মিরপুর মাজার শরিফ প্রাঙ্গণে আনজুমানে আছাদিয়া নুরিয়া সেহাবিয়া আয়োজন করে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এদিকে ইসলামী সমাজ আয়োজিত খিলগাঁয়ের সিপাহীবাগে  আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আমির  সৈয়দ হুমায়ূন কবীর, কেন্দ্রীয় নেতা সাঈদুজ্জামান খান, সৈয়দ মুহাম্মাদ কবীর, আসাদুজ্জামান, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, সোলায়মান কবীর, ইউসুফ আলী, নুরুদ্দীন, আজমুল হক প্রমুখ।

বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় এক আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এতে অংশ নেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের মসজিদে মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠান পালন করছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪টি জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়, ৫৫০টি উপজেলায় মডেল রিসোর্স সেন্টার শোভাযাত্রা, শবিনা খতম, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, মহানবী (সা.)-এর জীবনীর ওপর আলোচনার আয়োজন করে। স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোয় আলোচনা সভা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর