শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫১

চীনের অনেক প্রতিশ্রুতি, প্রাপ্তি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের অনেক প্রতিশ্রুতি, প্রাপ্তি কম

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রতিদিনই বড় হচ্ছে চীনের প্রতিশ্রুতির অঙ্ক কিন্তু সে হারে প্রাপ্তির অঙ্কটা বাড়ছে না। তিন বছর আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দুই হাজার কোটি টাকার যে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার খুব সামান্য অর্থই ছাড় করেছে দেশটি। শুধু তাই নয় যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে ওই ঋণ দেওয়ার জন্য চুক্তি করা হয়েছিল, সেগুলো চার বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই তিন বছর কেটে গেছে। আর প্রতিশ্রুত ঋণের মাত্র পাঁচ শতাংশ ছাড় করেছে চীন।

২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছিল। ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে এসব অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর পর্যন্ত এসব প্রকল্পের মধ্যে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তি সই হয়েছে মাত্র ছয়টি প্রকল্পে, যার অধীনে মাত্র ১০৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে চীন।

এ ছাড়া ২৭ প্রকল্পের অন্যতম ‘ঢাকা-সিলেট চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটিকে চীনের অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে বের করে সরকার এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে ২০টি প্রকল্প। ২০১৬ সালে ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঢাকায় চীনের সঙ্গে ২ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়। দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে এমন প্রত্যাশা থেকে সে সময় পাঁচটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়। কিন্তু চীনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় অর্থ সংকটে সে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে গতকাল দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকও করেছেন বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে প্রতিশ্রুত প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের গতি বাড়ানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীন সরকারের কর্মকর্তারা উল্টো বাংলাদেশের নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। এ জন্য প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সহজীকরণ ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ দেন তারা।

ইআরডি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ছাড় হওয়া ১০৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য ৫৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, ইনফো সরকার (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জন্য ৯৭ কোটি ২৫ লাখ আরএমবি (চীনা মুদ্রা), কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৭৩ কোটি ৩৩ লাখ আরএমবি, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন ও মুরিং স্থাপন প্রকল্পের জন্য ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ আরএমবি এবং মডার্নাইজেশন অব টেলিকম্যুনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য ২২ কোটি ৪৯ লাখ আরএমবি ছাড় করেছে দেশটি। এদিকে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল চুক্তি হওয়া এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হলেও এখনো কোনো অর্থ ছাড় করেনি চীন সরকার। একনেকের অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি প্রকল্পের রেল খাতের দুটি বড় প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি গত বছর ৫ নভেম্বর অনুমোদন করেছে একনেক। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৮৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা (১০৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার) চীনের দেওয়ার কথা। আর সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ২৩৯ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের প্রকল্পটি এ বছরের ৯ এপ্রিল অনুমোদন পায়। ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ১০ হাজার ৭৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা (১২৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার) চীনের দেওয়ার কথা। এর বাইরে রাজশাহী ওয়াসা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পে ২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি প্রকল্পে ৯৭ কোটি ডলার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ৬টি সম্পূর্ণ টিভি স্টেশন স্থাপন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় চীন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর