শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:২২

ভুল নম্বর সরবরাহ ডিসি রমনাকে ভর্ৎসনা কমিশনারের

সাখাওয়াত কাওসার

ভুল নম্বর সরবরাহ ডিসি রমনাকে ভর্ৎসনা কমিশনারের

থানার জিডি (সাধারণ ডায়েরি) এবং মামলায় বাদীর ভুল নম্বর দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে থানার ডিউটি অফিসারকে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে। যে কোনো মূল্যে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, রাজধানীর গলিপথগুলোতে টহল নিশ্চিত এবং ফ্লাইওভারগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন ডিএমপি কমিশনার। গতকাল ডিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত মাসিক অপরাধ সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরাধ সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং কর্মকর্তাদের পুুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। জানা গেছে, ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি থানায় দায়েরকৃত জিডি এবং মামলার বাদীকে ডিএমপি কমিশনারের অধীনে বিশেষ গোয়েন্দা সেল থেকে পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট বাদীকে ফোন দেওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয় তার সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা? এজন্য কোনো আর্থিক লেনদেন করতে হয়েছে কিনা? গত মাসে এ ধরনের ৭টি ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হন ডিএমপি কমিশনার।

গতকালের অপরাধ সভায় রমনা বিভাগে ৭টি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনারের কাছে ডিএমপি কমিশনারের প্রশ্ন ছিল, জিডি এবং মামলার বাদীর ভুল নম্বর কেন দেওয়া হলো? ঘটনাস্থল কেন পরিদর্শন করা হলো না? জানতে চান, নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে কমিশনারকে আশ্বস্ত করেন রমনার ডিসি মো. সাজ্জাদুর রহমান।  প্রতিটি থানাকে নজরদারির আওতায় নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এক কাপ চাও প্রত্যাশা করা যাবে না। কথা কম বলে কাজ বেশি করে দেখাতে হবে। ওয়ারেন্ট তামিল করার ব্যাপারে গুরুত্বের বিষয়টি গতকালও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি প্রধান সড়ক, গলিপথকে নজরদারির আওতায় আনতে টহল নিশ্চিতের নির্দেশ দেন তিনি। ফ্লাইওভারের সিসিটিভি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কমিশনার বলেন, অনেক ফ্লাইওভারে সড়কবাতি না থাকার কারণে সেখানে নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে ফ্লাইওভার সংলগ্ন বড় বড় ভবনে অন্তত কয়েকটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা পুলিশের উদ্যোগে বসানোর নির্দেশ দেন তিনি। অপরাধ সভায় কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, কৃষ্ণপদ রায়, আবদুল বাতেনসহ বিভিন্ন বিভাগের উপকমিশনাররা। অপরাধ সভায় গত ডিসেম্বর মাসে ডিএমপির শ্রেষ্ঠ অপরাধ বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে লালবাগ, শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা বিভাগ গোয়েন্দা-উত্তর, ট্রাফিক বিভাগ পূর্ব নির্বাচিত হয়েছে। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারসহ অপরাধ দমন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।


আপনার মন্তব্য