শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:১৭

এই অপরাধের শেষ কোথায়

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকারোক্তি মজনুর

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকারোক্তি মজনুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর হকিম মো. তোফাজ্জাল হোসেন আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে, রিমান্ডে থাকাকালীন আসামি মজনু ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জাবনবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। পরে  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আবু সিদ্দিক আসামি মজনুকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি ঢাবির ওই ছাত্রী রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে গলফ ক্লাবসংলগ্ন স্থানে পৌঁছান। এ সময় আসামি মজনু তাকে পেছন থেকে গলা ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং গলা চিপে ধরে। ছাত্রীটি চিৎকার করতে গেলে মজনু তাকে কিলঘুষি মারে ও ভয়ভীতি দেখায়। ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে ধর্ষণ করে আসামি মজনু। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান তার সহপাঠীরা। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

ভাসমান নারীদের স্বঘোষিত রাজা মজনু : ঢাকার কমলাপুর, ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ভবঘুরে হিসেবে দিন কাটাত চাঞ্চল্যকর ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনু। মাদকসেবনের মতোই ধর্ষণের নেশা ছিল তার। শিশু, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও ভবঘুরে নারীই ছিল তার টার্গেটে। ফুটপাথ, রেললাইন, ড্রেনের পাশে খুপরি বস্তি থেকে জোর করে নারীদের ধরে নিয়ে যেত। নিজের মতো করে কাছে রাখতে চাইত। বলত, ‘আমি এখন তোর রাজা’। এর পরই পৈশাচিক লালসা মেটাতে চাইত। রাজি না হলে মারধর করত। এমনকি হত্যার হুমকিও দিত মজনু। অপহরণ থেকে শুরু যাই করত, সবই ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। গতকাল তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মজনু নারীদের ধরে নির্জন জায়গায় নিয়ে যেত। সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও মেলামেশা করত। মজনু অনেক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। মজনু মূলত সিরিয়াল রেপিস্ট। যৌন রোগেও আক্রান্ত। এ ছাড়া ছিনতাই, রাহাজানি ও চুরির মতো অপরাধেও জড়িত ছিল মজনু। ঢাকার রেলস্টেশনগুলোতে মজনুর লালসার শিকার হয়নি এমন নারী কমই পাওয়া যাবে। রোকসানা, রুমা, রিমিসহ একাধিক নারী তার লালসার শিকার হয়েছে। সে চলন্ত গাড়ি থেকে মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ ছো মেরে নিয়ে যেত। টাকা ও মোবাইল রেখে ব্যাগ ফেলে দিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর