শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৫

গবেষণা

প্লাস্টিক দূষণ ঘটানোর শীর্ষে তরুণ-যুবকরা

প্রতিদিন ডেস্ক

প্লাস্টিক দূষণ ঘটানোর শীর্ষে তরুণ-যুবকরা

বাংলাদেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ এবং যুব জনগোষ্ঠী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এই তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী একবার ব্যবহার করা হয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পণ্য বেশি ব্যবহার করে। এরপর এগুলো যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়েছে, যেসব খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের প্যাকেট রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে তরুণ এবং যুবকরা- যাদের বয়স ১৫  থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়, তার ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে ১৫-২৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী, আর এ ধরনের প্লাস্টিকের ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে ২৬-৩৫ বছর বয়সীরা। অর্থাৎ তরুণ এবং যুবকরাই সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। কারণ মোট সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ৬৮ শতাংশ ব্যবহার করছে এই জনগোষ্ঠী। জরিপে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল, এয়ারলাইন্স এবং সুপারশপ থেকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি আসছে। এর মধ্যে বেশি আসে রেস্টুরেন্ট থেকে। এরপর রয়েছে এয়ারলাইন্স এবং আবাসিক হোটেল। আবাসিক হোটেল থেকে যেসব প্লাস্টিক বর্জ্য আসে সেগুলো হচ্ছে- শ্যাম্পুর বোতল ও মিনি-প্যাক, কন্ডিশনার প্যাকেট, টুথপেস্ট টিউব, প্লাস্টিক টুথব্রাশ, টি ব্যাগ এবং বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট। এয়ারলাইন্স থেকে আসে প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, প্লেট, কাপ, গ্লাস এবং আরও নানা ধরনের প্লাস্টিকের মোড়ক। প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিয়ে এ গবেষণাটি করেছে বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল  ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের মধ্যে গবেষণাটি করা হয়েছে। অর্গানাইজেশন-এর প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার হোসেন জানান, ২০১৮ সালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং সিলেট বিভাগীয় শহরে ১২০০ মানুষের ওপর তারা জরিপটি চালান। এ ছাড়া ২০১৯ সালে জরিপ চালানো হয়েছে ৮০০ জনের ওপর। এর মধ্যে ছিলেন প্লাস্টিক উৎপাদক, খুচরা বিক্রেতা এবং প্লাস্টিক ব্যবহারকারী। জরিপে বলা হয়েছে, পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ব্যবহারকারীদের কোনো ধারণাই নেই। শাহরিয়ার হোসেন মনে করেন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক থেকে সরে আসার লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। যেসব পণ্যের জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই আবশ্যক নয়, সেগুলো এখনই নিষিদ্ধ করা উচিত। আর যেসব পণ্যের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন সেগুলোর ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করা যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর