শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৫

গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেতেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেতেন না

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, শহীদ আসাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আমরা কারাগার থেকে মুক্তি করেছিলাম। গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্তি পেতেন না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সরকারি দলের আবদুল আজিজ, শহিদুল ইসলাম বকুল, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু প্রমুখ। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ’৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতে আমরা আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। বৈরী অবস্থায় দেশে ফিরে পিতার (বঙ্গবন্ধু) স্বপ্ন পূরণের কাজে তিনি হাত দেন। স্বাধীনতার পর অনেকে বলেছিল, বাংলাদেশ হবে দরিদ্রতার মডেল। কিন্তু আজ বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল। বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করছেন। শহীদ আসাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে আমরা কারাগার থেকে মুক্তি করেছিলাম। গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্তি পেতেন না। বঙ্গবন্ধু মুক্ত না হলে সত্তরের নির্বাচন হতো না। আমরা বিজয়ী হতে পারতাম না। আমরা বিজয়ী না হলে দেশ স্বাধীন হতো না। কিন্তু দিনটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও আমরা যথাযথভাবে পালন করি না। পৃথিবীতে অনেক নেতা আসবেন, যাবেন, কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো বিচক্ষণ নেতা বিরল। কারাগার থেকে মুক্ত করে এনে রেসকোর্সের মাঠে ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ থেকে আমরা জাতির পিতাকে কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলাম। পাকিস্তানের হানাদাররা বঙ্গবন্ধুর কারাগারের সামনে কবর খুঁড়ে রেখেছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মৃত্যুর ভয় করি না, বাঙালি জাতি হাসতে হাসতে জীবন দেবে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই। স্বাধীনতার পর ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশে ফেরত আসায় স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে আজ উন্নয়নের রোলমডেল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর শপথ ভঙ্গ করে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরাও তা স্বীকার করেছে। এই জিয়াই কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিলকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে। জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুকে যাদের নিরাপত্তা প্রদানের কথা ছিল, তারা তা করেননি। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমান এক সময় ধ্বংসের পথে ছিল। আজ বিমান ঘুরে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর