শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৩

ভোটে দুই সিটিতে দুই ফ্যাক্টর

মাহমুদ আজহার ও রফিকুল ইসলাম রনি

ভোটে দুই সিটিতে দুই ফ্যাক্টর

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিজয়ী হতে মরিয়া। দুই পক্ষই আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে। এই ভোটে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করছে। উত্তর সিটি করপোরেশনে ভাসমান ভোটারই বেশি। উত্তরে এটাই মূল ফ্যাক্টর। দক্ষিণে পুরান ঢাকার ভোটার সংখ্যা একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া তরুণ, নারী ও বস্তি  এলাকার ভোটাররাও জয়-পরাজয়ের বাধা হতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই সিটির মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন ভোটার। এরমধ্যে উত্তর সিটিতে ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। দক্ষিণ সিটিতে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে দুই সিটিতে বস্তিবাসী প্রায় ৫ লাখ ভোটার মেয়র প্রার্থীদের ভোটে ফ্যাক্টর হতে পারে। সেইসঙ্গে গার্মেন্ট কর্মী, সংখ্যালঘু, হেফাজতে ইসলাম, নতুন ভোটার, আঞ্চলিক ভোট ছাড়াও প্রধান দুই দল ও জোটের শক্তির রিজার্ভ ভোটব্যাংকও রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক, ড্রাইভার শ্রেণি, দারোয়ান, সুইপার, কাজের বুয়া, নিম্ন আয়ের মানুষ, দলিত সম্প্রদায়, ভাসমান ভোটাররা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে। দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আছে অসংখ্য কওমি, হাফেজিয়া ও আলিদা মাদ্রাসা। যেসব মাদ্রাসা হেফাজতে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে তাদের ভোট কোন প্রার্থী পাবেন সে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে বেশ কিছু ফ্যাক্টর কাজ করবে। ঢাকায় স্থায়ী অধিবাসীর চেয়ে ভাসমানই বেশি ভোটার। নানা শ্রেণি পেশার মানুষ এখানে বাস করে। ভোট হলে এসব হিসাব-নিকাশে আসবে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি যেভাবে মানুষের আস্থাহীনতা বাড়ছে, তাতে সুষ্ঠু ভোট নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের একটি প্রভাব পড়বে। তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরে বিজয়ী হয়ে নয় মাসে আতিকুল ইসলাম কতটুকু সফল হতে পেরেছেন তাও ভোটাররা বিশ্লেষণ করবে। ডেঙ্গু মশা নিধনে উত্তর সিটি কতটুকু সফল হয়েছে তাও আলোচনায় আসছে। তাছাড়া উত্তরে নোয়াখালী ভোটারের সংখ্যা বেশি। এখানে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বাড়ি নোয়াখালীতে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেই বিবেচনায় দুজনই নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভোটারদের কাছে টানবেন। এসব বিবেচনায় নিয়েই দুই প্রার্থী ছুটছেন বৃহত্তর নোয়াখালীর ভোটারদের বাসা-বাড়িতে। তাদের সঙ্গে নোয়াখালী অঞ্চলের নেতারাও কাজ করছেন। এবার আতিকুল ইসলাম সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন, ভোটারদের বাড়ি বাড়িও যাচ্ছেন। তার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়েও ভোটাররা বিশ্লেষণ করছেন। এ দিকে তাবিথ আগে নির্বাচন করার কারণে তার উত্তর সিটি নিয়ে পৃথক হোমওয়ার্কও রয়েছে। তার বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও ঢাকা সিটি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন। এটাও তাবিথের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। জানা যায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণেও কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করবে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সুন্দর করতে কথাও বলতে পারেন, যা ভোটারদের কাছে টানতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ইমেজ কাজে লাগাচ্ছেন তার পুত্র তরুণ নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। খোকা দীর্ঘ ৯ বছর  মেয়র পদে ছিলেন। পুরান ঢাকায় তিনি এর বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার পতœী আফরোজা আব্বাসও খোকার ছেলের পক্ষে ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে গণসংযোগ করছেন। যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুরের বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নবীউল্লাহ নবী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এটাও ইশরাকের জন্য বাড়তি পাওনা। দুই দলের শক্তিও দক্ষিণ সিটি ভোটে কাজ করবে। এ ছাড়া খোকাপুত্র ইশরাককে স্থানীয় ঢাকাইয়্যা বলেও পুরান ঢাকাবাসী গ্রহণ করেছেন। এটাও ভোটে ফ্যাক্টর।

ঢাকায় বস্তির ৫ লাখ ভোটারই ফ্যাক্টর হবে : জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বস্তিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। এরমধ্যে প্রায় অর্ধেকই সিটি এলাকার ভোটার। সে হিসাবে দুই সিটিতে বস্তিবাসী ভোটার প্রায় ৫ লাখ। বস্তিবাসীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, তারা মেয়র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নগদ আর্থিক সুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে কাউন্সিলরদের বেলায় কাছের মানুষ খোঁজার প্রবণতা রয়েছে। আর এবারের নির্বাচনে টাকা পয়সা ছড়ানো হতে পারে মোবাইলের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকে বস্তিবাসীরা বিনোদনের অংশ মনে করে। এ জন্য তাদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা  বেশি। তবে টাকা আর পেশিশক্তির কারণে বস্তিবাসীরা সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে না। এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের বেশির ভাগই টাকাওয়ালা-ব্যবসায়ী। তাই অর্থ ছড়ানোর প্রবণতাও বাড়বে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর