শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৪

জঙ্গিরা ব্যবহার করছে বিশেষ অ্যাপস

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

জঙ্গিরা ব্যবহার করছে বিশেষ অ্যাপস

সাইবার স্পেসে অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে উগ্র মতবাদের প্রচারণা। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্লগ এবং মেসেঞ্জার অ্যাপস ব্যবহার করে অনেকটা অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও সম্প্রচার। সংগঠনগুলোর অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করছে নিজস্ব তৈরি অ্যাপস। আবার অনেক সংগঠন যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করছে হাই সিকিউরেটেড অ্যাপস। র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইনভিত্তিক তৎপরতা ঠেকাতে সাইবার স্পেসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে র‌্যাবের বিশেষ ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে।’ সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার শওকত আলী বলেন, ‘জঙ্গিদের দাওয়াতি কার্যক্রম ঠেকাতে অনলাইনে আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। কারও অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর উলাইয়াহ বাংলাদেশ, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, নব্য জেএমবিসহ জঙ্গি সংগঠনগুলো সাধারণ দাওয়াতি কার্যক্রম পরিহার করে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ দাওয়াতি কার্যক্রম সুনিপুণভাবে পরিচালনা করার জন্য রয়েছে আইটি বিশেষজ্ঞ টিম। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং বিভিন্ন সাইট ব্যবহার করে কৌশলে উগ্র মতবাদ প্রচার করছে। এ ছাড়া জঙ্গি সংগঠনের আইটি টিম উগ্র মতবাদের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ খোলে। এসব পেজে অনেকেই কমেন্ট ও লাইক দেন। যারা লাইক ও কমেন্ট দেন তাদের টার্গেট করেই চলে পরবর্তী দাওয়াতি কার্যক্রম। এরপর কৌশলে চলে তাদের মগজ ধোলাই। একপর্যায়ে টার্গেট জড়িয়ে পড়েন জঙ্গিবাদে। ডিসেম্বরের শুরুতে হিযবুত তাহ্রীর উলাইয়াহ বাংলাদেশের ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর এ মামলার তদন্ত সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছে ন্যস্ত করা হয়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হিযবুত তাহ্রীর নেতা-কর্মীরা জানান, হিযবুত তাহ্রীরের কার্যক্রম চলছে অনেকটা অনলাইনকেন্দ্রিক। অনলাইনে চলছে তাদের সিংহভাগ দাওয়াতি কার্যক্রম। হিযবুত তাহ্রীরের পক্ষ থেকে অনলাইনে নিয়মিত সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। এমনকি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করা হয় হাই সিকিউরেটেড অ্যাপস। অনলাইন মার্কেট থেকে এসব অ্যাপস সংগঠন কিনে দেয়। এ অ্যাপস দিয়েই নিজেরা যোগাযোগ করছে। যোগাযোগের জন্য তারা ব্যবহার করছে টেলিগ্রাম, থ্রিমার, সিগান্যাল, টুটকসহ নানা ধরনের মেসেঞ্জার অ্যাপস। সিএমপির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে হাই সিকিউরেটেড অ্যাপস ব্যবহার করে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইন মার্কেট থেকে এসব অ্যাপস কিনে অনুসারীদের দেওয়া হয়। এসব অ্যাপস ব্যবহার করে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর