শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০৮

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা

চোখ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে, তেজগাঁওয়ে অস্ত্রসহ কাউন্সিলর প্রার্থী আটক, কেন্দ্রে ভোটার ছাড়া কাউকে পেলেই গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা
রাজধানীতে গতকাল বিজিবি সদস্যদের টহল -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দুই সিটিতে আজকের ভোটে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানীকে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচনী মাঠে অবস্থান নিয়েছে। গোয়েন্দাদের দৃষ্টি রয়েছে ১ হাজার ৬০০ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের দিকে। ভোট কেন্দ্র বা তার আশপাশে ভোটার ছাড়া কাউকে পেলেই          গ্রেফতার করা হবে। যে কোনো গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চোখ রাখা হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে পুলিশ ও র‌্যাব রয়েছে তৎপর। চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি। র‌্যাবের বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড রয়েছে প্রস্তুত। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকার আকাশে উড়বে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। এ ছাড়া ভোটে সন্ত্রাসী প্রার্থীদের ওপরও চলছে নজরদারি। ঢাকার বাইরে থেকে আসা দাগি অপরাধীদের গ্রেফতারেও চলছে সাঁড়াশি অভিযান। গতকাল দুপুরে দুই দলের সংঘর্ষের পর অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ২৪ নং ওয়ার্ড স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী তালুকদার সারওয়ার হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। আর এটি করতে যা যা করণীয় তার সবই করা হয়েছে। এবারের সিটি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা কমলেও বড় দুই দল মাঠে থাকায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে দুই দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এই সংখ্যা ১২৫-এর ওপর। আছে সন্ত্রাসী প্রার্থীও। তারা আইনশৃঙ্খলা নষ্টের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এসব বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এবারের সিটি নির্বোচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অর্ধলক্ষাধিক সদস্য গোটা শহরে মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থী ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে এমন প্রার্থীদের ওপর নজরদারি চলছে। বহিরাগতদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমশিনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটার ছাড়া কাউকে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ভোটার ছাড়া কাউকে পেলেই গ্রেফতার করা হবে, সে যে রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী হোক। গতকাল বিকালে সিদ্ধেশরী স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। পুলিশ কমিশনার নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাঠে ৩০ হাজার পুলিশ থাকছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আমাদের নজরদারি রয়েছে। কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমেদ গত বৃহস্পতিবার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় লোক ঢাকায় থাকার দরকার নেই। যদি কেউ থেকেও যান, আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। নির্বাচনের দিন বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই। নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা শহর শুধু ভোটারদের জন্য। এই দুই দিন নগরবাসীকে পরিচয়পত্র নিয়ে চলাফেরা করার পরামর্শ দেন। ভোট কেন্দ্রের আশপাশে অবাঞ্ছিত  লোকজন যেন না থাকেন। কেউ নির্বাচনকেন্দ্রিক অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে দেশে যে প্রচলিত আইন আছে, সেই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫০ হাজার সদস্য : ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্ট্রইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবির ৬৫ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে মোট চার দিন দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি সদস্যরা। এ ছাড়া বিজিবির ১০ প্লাটুন রিজার্ভ থাকবে নির্বাচন উপলক্ষে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায়।

সূত্র জানায়, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকছে। বিজিবি, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনী গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটের দায়িত্বে নিজ নিজ সদস্যদের নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন করেছেন। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন করে বিভিন্ন বাহিনীর ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে একজন এসআই অথবা এএসআইয়ের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ সদস্য, অস্ত্রসহ আনসার দুজন ও ১০ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন থাকবে। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা দুজন বেশি রয়েছে। দুই সিটিতে দুই হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি। এই হিসেবে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত থাকবে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য। আর ভোটের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ৭৫ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জওয়ান নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম, র‌্যাবের ১২৯ টিম নিয়োজিত থাকছে। র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন থাকছে।

সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ কাউন্সিলর প্রার্থী আটক : রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী তালুকদার সারওয়ার হোসেনকে অস্ত্র-গুলিসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার অনুসারী আরও পাঁচজনকে থানায় নেওয়া হয়। গতকাল জুমার নামাজ শেষে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শফিউল্লাহ শফির লোকজনের ওপর হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার সারওয়ারের সমর্থকরা। এতে সংর্ঘষ বেধে যায়। আতঙ্ক ছড়ায় চারদিকে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী তালুকদার সারওয়ারকে আটক করে পুলিশ। আটকের সময় তার কাছ থেকে একটি রিভলবার ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

তালুকদার সারওয়ার কাঁটা চামচ মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জানা গেছে, তিনি এর আগে দুবার ওই এলাকার কমিশনার ছিলেন। তিনিও আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন চেয়েছিলেন। সন্ত্রাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগে তাকে সমর্থন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, জুমার নামাজের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তালুকদার সারওয়ারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তারা জানতে পেরেছেন সেটি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র। তবে ম্যাজিস্ট্রেট তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর