শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০৯

কেন্দ্র পাহারার কথা বলছে দুই দলই

বনানী ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে মনিটরিং করবে আওয়ামী লীগ নয়াপল্টন, গুলশান ও গোপীবাগ থেকে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্র পাহারার কথা বলছে দুই দলই

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ কেন্দ্র পাহারা বসানোর কথা বলেছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। একে অপরের বিরুদ্ধে ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা কেন্দ্র দখল’র অভিযোগ তুলে এই পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। আজ ভোট শুরু হওয়ার আগ থেকেই নিজ নিজ এলাকায় ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেবে নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে দায়িত্ব বুঝে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সকাল থেকে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন মনিটরিং করবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

এদিকে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দক্ষিণ এবং বনানী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী পরিচালনা কার্যালয় থেকে উত্তর সিটির ভোট মনিটরিং করবেন দলটির সিনিয়র নেতারা। উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম নির্বাচন কমিশনে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকবে। অন্যদিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে ভোট মনিটরিং করবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এ ছাড়া দক্ষিণ সিটি ভোট গোপীবাগে ইশরাকের বাসার নিচতলা থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে হক টাওয়ারে ঢাকা উত্তর সিটির ভোট পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

আওয়ামী লীগ : আজ সকাল থেকেই সিটি ভোটের দিকে চোখ রাখবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা যেন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, অথবা গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য ভোট কেন্দ্রের চারপাশে বসানো হবে পাহারা। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে দক্ষিণের ভোট মনিটরিং করবেন সিনিয়র নেতারা। বনানীতে আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে উত্তরের ভোট মনিটরিং করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যরা। ভোট কেন্দ্রে কোনো ধরনের গোলযোগ হলে কিংবা সন্ত্রাসীদের আনাগোনার খবর পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম নির্বাচন কমিশনে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকবে। প্রয়োজন না হলে তারা নির্বাচন কমিশনে যাবে না।

গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের মাঠে জনগণের আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে তারা বিভ্রান্ত নাবিকের মতো আচরণ করছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের প্রার্থীদের কথাবার্তা ও আচরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের প্রত্যক্ষ উসকানি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবে।

ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে, ভোটের পরাজয়কে নিশ্চিত জেনে নির্বাচন ভ-ুলের ষড়যন্ত্র করা হলে, ওদের মাঠ থেকে উচ্ছেদ করার প্রস্তুতি আপনাদের নিতে হবে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের বলি, ভোটের দিন সাতসকালে আপনারা যার যার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। লাইনে দাঁড়াবেন এবং ভোটকেন্দ্র আপনাদের দখলে রাখবেন। আপনাদের নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, যেন কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে সন্ত্রাসী, রগকাটা পার্টি, যুদ্ধাপরাধীরা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান না নিতে পারে।

বিএনপি : সিটি ভোটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। দুই সিটিতে জিততে মরিয়া বিএনপিও। এ জন্য দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন। লন্ডন থেকে ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটিসহ সব নেতাই ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। এবার নয়াপল্টন ও গুলশান অফিস ছাড়াও রাজধানীর কারওয়ান বাজার হক টাওয়ার থেকে উত্তর সিটি এবং গোপীবাগে ইশরাক হোসেনের বাসা থেকে দক্ষিণ সিটি ভোট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুলশানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। নয়াপল্টনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দফতর শাখা এবং দুই সিটিতে গঠিত দুই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার জন্য একটি কমিটি, কূটনীতিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পৃথক একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংবাদ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল বিকালে ঢাকা দক্ষিণের ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের গোপীবাগের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের জরিপ সিটি করপোরেশনের গোটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা বলেছেন, এখানে তাদের দ্ইু মেয়র প্রার্থী জয়লাভ করবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে ২৮ ডিসেম্বর একইভাবে তিনি নির্বাচন নিয়ে একটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সাধারণত, যারা জ্যোতিষ তারা এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন। আমরা মনে করি, তিনি (সজীব ওয়াজেদ জয়) ভোটের আগে এ ধরনের যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করছেন  সেগুলো গোটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। যখন সরকারি দলের বড়  নেতা বা কর্মকর্তা বা কেউ এই ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে যখন এই ধরনের কথা বলেন তখন ডেফিনেটলি সেটা গোটা নির্বাচনের ব্যবস্থার ওপরই প্রভাব পড়ে। নির্বাচন কমিশন যারা ভোট গ্রহণ করবেন তাদের সবার ওপরই।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের এ রকম জরিপের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমার মনে হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা করা উচিত যে, তাকে (সজীব ওয়াজেদ জয়) তার উপদেষ্টা হিসেবে রাখবেন নাকি ‘রাজ  জ্যোতিষী’ হিসেবে তাকে নতুন নিয়োগ দেবেন।

এদিকে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন যা দেখেছি, সরকারের কর্মকর্তাদের যে সব কথা শুনছি, তাতে করে এটা স্পষ্ট যে, সরকার চেষ্টা করছে পুরো নির্বাচনটাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, প্রত্যেকটি কেন্দ্র তারা পাহারা দেবেন এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের কর্মীদের যে রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন  যে, যে কোনো মূল্যে তাদের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তারপরেও আমরা যেটা বিশ্বাস করি, ঢাকা শহরের মানুষ ঢাকাবাসী দুই করপোরেশনেই তারা তৈরি হয়ে আছেন যদি তারা ভোট দেওয়ার ন্যূনতম সুযোগ পান তাহলে তারা অবশ্যই দক্ষিণে ইশরাক ও উত্তরে তাবিথকে জয়যুক্ত করবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর