শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০৯

সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়রানি
মোহাম্মদপুরে হামলার শিকার সাংবাদিক সুমন

সিটি নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে নজিরবিহীন হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। গতকাল বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সরকার সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা রায়েরবাজারে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে রাস্তায় ফেলে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে বেধড়ক পেটায়। গেন্ডারিয়ার একটি মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে গেন্ডারিয়ার কুখ্যাত সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম খান রিয়াদের নেতৃত্বে হামলাকারীরা বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক   মাহবুব মমতাজীসহ দুই সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। দুই ঘণ্টা তাদের আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখায়। মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। ভোটের সময় ধারণ করা ভিডিও এবং ছবি মুছে দেয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রিয়াদ সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পায়। সে নিজেকে গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বলে পরিচয় দেয়। ইস্কাটনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আরেক প্রতিবেদক গোলাম রাব্বানীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্থানীয় কিছু যুবক। এরপর তারা ওয়াকিটকিতে বড় ভাইদের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব হামলায় অন্তত আটজন সাংবাদিক আহত হন। গুরুতর আহত মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোটের মাঠে সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে এমন হামলার শিকার হওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সংবাদ কর্মীদের মাঝে। সাংবাদিক নেতারা হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ আহত সুমনকে দেখতে হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাহবুব মমতাজী এবং দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর নুরুল আমিন জাহাঙ্গীর নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য গেন্ডারিয়ার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে যান। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসার ৬৯৮ ও ৬৯৯ নম্বর কেন্দ্রের দোতলা ও তিনতলার বুথে যান। সেখানকার একটি বুথ থেকে ভোট না দিতে দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন দুই ভোটার। গনি সওদাগর নামে তাদের জানান, নিজের কোমরে অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রের বুথ দখলে রাখেন গেন্ডারিয়ার সন্ত্রাসী রিয়াদ। তাকে কেন্দ্র থেকে ভোট দেওয়ার আগেই বের করে দিয়েছে। দুই সাংবাদিক ওই দুই ভোটারের ছবি নেন এবং তাদের বক্তব্য টুকে রাখেন। এরই মধ্যে রিয়াদ এসে তাদের পিছন থেকে আচমকা কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া ভোট পরিদর্শন কার্ডও ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন। মোবাইলফোন না দিলে অস্ত্রের ভয়ও দেখায় রিয়াদ। একপর্যায়ে সে নিজে এবং তার সহযোগীদের দিয়ে তাদের পকেট থেকে মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। তাদের সোয়া ঘণ্টা ধরে ভোট কেন্দ্রে অবরুদ্ধ করে রাখে। ভয়ভীতি দেখায় তারা। বিষয়টি তারা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার তারিকুল ইসলাম, পুলিশের কেন্দ্র ইনচার্জ এসআই মাহমুদ ও এএসআই আরিফকে জানালে তারা কিছু করতে পারবে না বলে জানায়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হান্নানুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এলে ওই দুই সাংবাদিক বিষয়টি তাকে জানান। এরপর তিনি রিয়াদকে মোবাইল দিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে রিয়াদ পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই সাংবাদিকদের মোবাইলের পাসওয়ার্ড নিয়ে যাবতীয় তথ্য মুছে দেন। এরপর মোবাইলফোন ওই দুই সাংবাদিককে ফিরিয়ে দেন। মোবাইলের তথ্য মুছে দেওয়ার সময় পুলিশের সামনে রিয়াদের কোমরে অস্ত্র বহন করতে দেখা যাচ্ছিল, তার কালো জ্যাকেটের এক পাশে অস্ত্রের একটি অংশ বেরিয়ে ছিল। গেন্ডারিয়ার এ ঘটনার ৩০ মিনিট পরেই হামলার শিকার হন অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন.কমের ফটোসাংবাদিক ওসমান আলী। তিনি টিকাটুলির কামরুন্নাহার গালর্স হাইস্কুল কেন্দ্রে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হন। জানা যায়, এর আগে রায়েরবাজার সাদেকখান রোডে আওয়ামী লীগ সমর্থীত কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাডারদের সশস্ত্র মহড়ার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। সুমনকে প্রথমে জেএইচ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলে নেওয়া হয়। তিনি আগাম নিউজ ২৪.কম নামক একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করেন। একই সময় নিকুঞ্জে জানে আলম স্কুল কেন্দ্রে বার্তা সংস্থা পিবিএ-এর বিশেষ প্রতিনিধি জিসাদ ইকবালও আক্রমণের শিকার হন। গুরুতর জখম হন তিনি। তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য