শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১

চীনে অবরুদ্ধ ১৭১ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন, ফেরার আকুতি

মৃত্যু ৬৩৬ জনের, আক্রান্ত ৩১ হাজার, প্রথম সতর্ক করা সেই চিকিৎসকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনে অবরুদ্ধ ১৭১ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন, ফেরার আকুতি
লি ওয়েনল্যাং

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। উহানের যে চিকিৎসক প্রথম এ ভাইরাসের বিপদ নিয়ে সতর্ক করে কর্তৃপক্ষের রোষে পড়েছিলেন, তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখন্ডে বৃহস্পতিবার আরও ৭৩ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। তাতে চীনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ জনে। চীনের বাইরে হংকং ও ফিলিপিনসে মারা গেছেন আরও দুজন। এদিকে চীনের উহান শহরে থ্রি গোর্জেস ইউনিভার্সিটির ১৭১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। অবরুদ্ধ এসব শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আবাসিক হলে থাকেন সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এতে কেউ বাইরে বেরুতে পারছেন না। তাদের খাবার ও পানি ফুরিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কোনো খাবার দিচ্ছে না। বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়, কেবল চীনের মূল ভূখন্ডেই নভেল বা নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ১৪৩ জনে। চীনের বাইরে আরও অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে আড়াইশর বেশি মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। বেশির ভাগ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে চীনের হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টিন করে। কিন্তু ভাইরাস ছড়ানো ঠেকানো যাচ্ছে না। জাপানের ইয়োকোহামা এবং হংকং বন্দরে দুটি প্রমোদতরীর কয়েক হাজার যাত্রী ও ক্রুকে পর্যবেক্ষণের জন্য জাহাজেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে নোঙ্গর করে থাকা ডায়মন্ড প্রিন্সেসে ৬১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর হংকং বন্দরের ওয়ার্ল্ড ড্রিমে আক্রান্ত হয়েছেন আটজন। বেইজিং বলেছে, নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ‘জনযুদ্ধ’ শুরু করেছে তারা। আর এ কাজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টেলিফোন করে তিনি বলেছেন, নতুন এ করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সম্ভব সবকিছুই চীন করবে।

তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের অর্থনীতিই ক্ষতির মুখে পড়ছে। আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন দেশ চীনের সঙ্গে বিমান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখায় বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার আকুতি : চীনের উহান শহরে থ্রি গোর্জেস ইউনিভার্সিটির ১৭১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তাদের আবাসিক হল সিলগালা করে দিয়েছে। কেউ বাইরে বের হতে পারছেন না। তাদের খাবার ও পানি ফুরিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কোনো খাবার দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন বাঁচাতে ফেসবুকে সরকারের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। দ্বীন মুহাম্মদ প্রিয় নামের এক শিক্ষার্থী এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমাদের ট্রেন, স্টেশন ও বিমানবন্দর বন্ধ। সরকারের সাহায্য ছাড়া আমরা এখান থেকে বের হতে পারব না।’ তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, চীন থেকে আর কাউকে ফেরত আনা হবে না। কেউ আসতে চাইলে তাকেও নিরুৎসাহিত করা হবে। একই দিন ঢাকায় কর্মরত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সাংবাদিকদের বলেন, চীনে কোনো বাংলাদেশি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। 

প্রথম সতর্ক করা চিকিৎসকের মৃত্যু : নতুন করোনাভাইরাসের আশঙ্কার দিক তুলে ধরে যে চিকিৎসক প্রথম সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই লি ওয়েনল্যাংও মারা গেলেন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে। বিবিসি জানায়, লি ওয়েনল্যাংয়ের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে গভীর রাতে চীনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি শেষে উহান সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর