শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৯

নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়ে করণীয় ঠিক করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়ে করণীয় ঠিক করতে হবে
হোসেন জিল্লুর রহমান

করোনাভাইরাসের চলমান বৈশ্বিক প্রকোপ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পাওয়াটাই সবার আগে জরুরি। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি, গার্মেন্ট ও প্রবাসী আয়। চলমান করোনা সংকটের কারণে এই তিনটি খাতের মধ্যে দুটি খাতই অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রপ্তানি খাতের একক পণ্য হিসেবে গার্মেন্ট খাতও ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত; প্রতিদিনই তাদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল তিনি আরও বলেন, ২০০৮-০৯ সালে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছিল তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারে এবারের করোনা-পরবর্তীতে অর্থনৈতিক সংকট। তবে সেটা নির্ভর করছে করোনার স্থায়িত্বের ওপর। কেননা এবারের সংকট আর ২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সংকট ভিন্নতর। ২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটা দুর্বলতার জন্য আবাসনশিল্প একটা অস্থির জায়গায় চলে গিয়েছিল। তারই সূত্র ধরে সংকটটা তৈরি হয়েছিল। এবারের সংকট  থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব কিনা, তা নির্ভর করছে এর স্থায়িত্ব কত দিন হবে, তার ওপর। এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে যদি প্রকোপ শেষ হয়ে যায়, তাহলে একটা অবস্থা হবে। কিন্তু এর পরে গেলে বড় বিপর্যয়ের মধ্যে চলে যাব আমরা। এবারের সংকটটা ভয়াবহ এ কারণেই যে- এখানে মানুষের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। মানুষের জীবন যেখানে বিপন্ন সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট মুখ্য নয়। কিন্তু করোনা-পরবর্তী অর্থনীতিটা আসলে এর স্থায়িত্বের ওপরই নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি হলো প্রবাসী আয়। করোনার কারণে এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব এই মুহূর্তে না পড়লেও পরে পড়বে। সংকটের এই মুহূর্তে এখন একটা প্রয়োজনীয় বিষয় হলো তথ্য। বিদেশ থেকে কে এলো, কোথায় এলো, তাদের সম্পর্কে তথ্য জানাটা জরুরি। তথ্যের বিষয়ে মনোযোগী হওয়াটা এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি কাজ। এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে করণীয় ঠিক করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তথ্য না থাকলে কারচুপি, অপচয় ইত্যাদি দেখা দেবে। তাই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়া আরেকটি গোষ্ঠী হলো অর্থনৈতিক উদ্যোক্তা, যাদের সরবরাহ চেইন বিদেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামাল, মেশিনারিজ এসবের ওপর নির্ভরশীল। এই সরবরাহ চেইন করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় এবং বলা যায় সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠী হলো, যাদের জীবিকা অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি আছে। যেমন রিকশাচালক, দিনমজুর এরা। সেবা খাতটাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতিমধ্যে হয়েছে, আরও হবে। আসল কথা হলো শ্রম দিয়ে যেসব মানুষের জীবন চলে, তাদের ওপর বড় প্রভাব পড়বে। শিল্পের আগে আমাদের এই সেবা খাত আক্রান্ত হয়েছে। শ্রমনির্ভর মানুষেরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। পরিবহন সেবা ইতিমধ্যে ধাক্কা খেয়েছে। সেটাও এই সেবা খাতের মধ্যে পড়ে। আমাদের দেশে ইতিমধ্যে ধাক্কা খেয়েছে পর্যটনশিল্প। এই খাতের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য উপ-খাতগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতি প্রতিদিনই বাড়ছে।


আপনার মন্তব্য