প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০২০ ২৩:৫৯

সাদাকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী

সাদাকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

ইসলামী শরিয়তে সাদাকাতুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মাহে রমজানের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হয়। এটি জাকাতেরই একটি প্রকার, যে বিষয়ে মহান আল্লাহ সুরা আলায় ইশারা করেছেন, ‘নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে যে শুদ্ধ হয় এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর সালাত আদায় করে।’ সুরা আলা, আয়াত ১৪-১৫। অর্থাৎ জাকাত দ্বারা মাল শুদ্ধ হয়। আর সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা রোজা শুদ্ধ হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিস ও সুন্নাহে তা আদায়ে জোর তাকিদ করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহকে এর নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণেই তাঁর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ইসলামের পাঁচটি রুকন, দীনের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো সাদাকাতুল ফিতরের ওপরও নিয়মিত আমল করে আসছে। এবং সময়মতো উপযুক্ত খাতে তা যথাযথভাবে আদায়ও করছে। তবে আমাদের দেশে সাদাকাতুল ফিতর পরিচিত ‘ফিতরা’ নামে। একটি হাদিসে সাদাকাতুল ফিতরের দুটি হিকমত ও তাৎপর্য স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি তা পূরণ এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য।’ আবু দাউদ। বর্তমানে আমাদের দেশসহ পুরো বিশ্বে করোনাভাইরাস তা-বলীলা চালাচ্ছে, সে ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু কিছুই বাছে না। যাকে পাচ্ছে তাকেই আক্রান্ত করছে। বহু মানুষকে নিঃস্ব বানিয়ে দিচ্ছে। অনেকে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। আল্লাহর এই সুন্দর দুনিয়ায় তাদেরও দুই মুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাই আমাদের সবার কর্তব্য, খুশিমনে এ ইবাদতটি আদায় করা, যাতে আল্লাহর গরিব বান্দাদের খিদমত হয়। তারা যেন তাদের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে নিজের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয়। সর্বোপরি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদত আদায়ের সৌভাগ্য অর্জন হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর আলোকে এ ইবাদতের বিস্তারিত আহকাম ও বিধিবিধান ফিকাহর কিতাবে উল্লেখ আছে। এখানে তার বিস্তারিত উল্লেখ সম্ভব নয়। তবে সংক্ষেপে এতটুকু লিখব, এই সাদাকার পরিমাণ সম্পর্কে হাদিস ও সুন্নাহয় দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তা হচ্ছে- ‘সা’ ও ‘নিসফে সা’। এখানে আমাদের সহজে বোঝার জন্য ইসলামী শরিয়ত সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের লক্ষ্যে পাঁচটি খাদ্যদ্রব্যের কথা উল্লেখ করেছে। যে কোনো একটি পণ্য দিয়ে অথবা আমাদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্যের মূল্য প্রদান করলেও ইনশা আল্লাহ সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে। পাঠকের সুবিধার জন্য হাদিস থেকে প্রাপ্ত এ পণ্যগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এ বছরের ফিতরার সম্ভাব্য মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো- ১. আটা/গম ৭০ টাকা ২. যব ২৭০ টাকা ৩. কিশমিশ ১৫০০ টাকা ৪. খেজুর ১৬৫০ টাকা ৫. পনির ২২০০ টাকা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ২০২০ সালের সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে; যা আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বছর জনপ্রতি ফিতরা আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ২২০০ টাকা আর সর্বনিম্ন ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, মূল্যের দিক থেকে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তফাত আছে। কোনোটির দাম বেশি, কোনোটির কম। মূল্য বেশকম হওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আমি ওপরে লিখেছি, এখন সবচেয়ে কম দামের বস্তুকে মাপকাঠি ধরে কেউ যদি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে তা হলেও আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা। তা জায়েজ ও উত্তম। বিচক্ষণরা এ দুয়ের মধ্যে উত্তমটিই কিন্তু গ্রহণ করে। তাই আসুন আমরা সাদাকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে উত্তমের ওপর আমল করি। ঈদের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে নিই। রব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে সব বিষয়ে উত্তমের ওপর আমল করার তৌফিক দান করেন।

লেখক : খতিব ও টিভির ইসলামবিষয়ক প্রোগ্রাম উপস্থাপক।


আপনার মন্তব্য