শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০৩

পুলিশ হবে গণমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ হবে গণমুখী

পুলিশ হবে গণমুখী। তবে জনগণের পুলিশ হতে হলে জনগণকে ভালোবাসতে হবে। দমন-পীড়ন থেকে বেরিয়ে এসে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি মাদকসহ সব ধরনের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে পুলিশকে। এ জন্য পুলিশ বাহিনীকে উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। পুলিশের ইনোভেশন অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিস শাখার উদ্যোগে গতকাল পুলিশ সদর দফতরে সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত গ্রহণবিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। পুলিশকে জনবান্ধব, আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে এই কর্মশালায় কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। আইজিপি বলেন, বর্তমান করোনাকালে পুলিশ যেভাবে জনগণের কাছে  গেছে, তাদের পাশে থেকেছে, তাদেরকে সুরক্ষা দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পুলিশ কাজটি নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে বলেই মাত্র তিন মাসে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। যদিও এ কাজের জন্য অনেক পুলিশ সদস্য নিজের অজান্তেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন ৪৪ জন সম্মুখযোদ্ধা বীর পুলিশ সদস্য।

এরপরও আমরা বলতে চাই, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর করোনার কারণে যে সুযোগ আমরা পেয়েছি সেটি হাতছাড়া করব না। করোনা চলে গেলেও আমরা আর আগের স্থানে ফিরে আসব না। বরং সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের অন্যতম সারথি হিসেবে দেশের জন্য রক্ত দিয়ে গড়া এ বাহিনীকে উন্নত দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে কনস্টেবল থেকে শুরু করে সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সের মতামত জানতে চান আইজিপি। তিনি সবার মতামত নিয়ে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পুলিশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে চান, যাতে জনগণ পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা জানায়; যাতে জনগণের হৃদয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী আসন করে নিতে পারে পুলিশ।

পুলিশ প্রধান বলেন, করোনায় পুলিশ শুধু কোয়ারেন্টাইন, লকডাউনই বাস্তবায়ন করেনি। অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন পুলিশ তাদের জানাজার আয়োজন, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। এসব দায়িত্ব পুলিশের নয়, পুলিশকে এ দায়িত্ব দেওয়াও হয়নি। পুলিশ এসব কাজ নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার পুলিশের এ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। করোনাভাইরাস থেকে জনগণকে রক্ষা করতে গিয়ে যেসব পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তাদের পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। যেসব পুলিশ সদস্য অসুস্থ রয়েছেন তাদের রোগমুক্তি কামনা করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর