শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:১৪

মৃত্যু ৪৪ শনাক্ত ৩২০১

বিশেষ প্রতিনিধি

মৃত্যু ৪৪ শনাক্ত ৩২০১

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৯৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২০১ জনের। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন। আইইডিসিআরের অনুমিত হিসাবে গত একদিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে আরও ৩ হাজার ৫২৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ১৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সবশেষ পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৫ জনের এবং বাড়িতে থাকা অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন খুলনা বিভাগের, দুজন রংপুর বিভাগের, চারজন বরিশাল বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। অঞ্চল বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জন, বরিশাল বিভাগে চারজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন, খুলনা বিভাগে দুজন, সিলেটে তিনজন, রংপুরে দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন নয়জন। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সারা দেশে ৭৩টি ল্যাব চালু হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮টি ল্যাব থেকে নমুনা সংগ্রহের তথ্য এসেছে। এসব ল্যাবে গত এক দিনে ১৪ হাজার ২৪৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩০৭টি নমুনা। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মৃত্যু হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। আইসিইউ শয্যা থাকলেও অনেক রোগীকে তা বরাদ্দ দিতে না পারার কারণ এই বুলেটিনে ব্যাখ্যা করেন ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনিসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য শয্যা বরাদ্দ থাকে। মেডিসিন বিভাগে রোগী বেশি হয়ে গেলে নেওয়ার জায়গা থাকে না। তখন সার্জারি বা গাইনি ওয়ার্ডে শয্যা খালি থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া যায় না। কারণ সার্জারি বা গাইনি বিভাগের আইসিইউর যে ব্যবস্থা, তাতে অনেক সময় অপারেশনের রোগী থাকে। সেজন্য মেডিসিন বিভাগের রোগীদের আইসিইউর চাহিদা থাকলেও চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে অন্য বিভাগের আইসিইউ দেওয়া যায় না। এদিকে সারা দেশের কোথায় কোথায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেন তার সর্বশেষ খবর জানিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা- দিনাজপুর : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৬ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ৫৪৭ জন, নারী ১৭৮ জন ও শিশু ৩১ জন রয়েছে। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ২৬ জন। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪১০ জন। দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল কুদ্দুছ জানান, নতুন করে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে দিনাজপুর সদরে ১৪ জন, কাহারোলে একজন, বিরলে দুজন, চিরিরবন্দরে একজন রয়েছেন। বগুড়া : জেলায় আরও ৬৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে বগুড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩৭৫ জন। নতুন একজনসহ মারা গেছেন ৬২ জন। বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সদর উপজেলায় ৪৭, শাজাহানপুরে ৬, শেরপুরে ১২, শিবগঞ্জে ২ এবং  কাহালুতে একজন। ময়মনসিংহ : জেলায় আরও ২৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে শনাক্তদের মধ্যে সিটি করপোরেশন ও সদরে ছয়জন, মুক্তাগাছায় সাতজন, নান্দাইলে চারজন, ফুলবাড়িয়ায় তিনজন, ত্রিশালে দুজন, গফরগাঁও ও ভালুকায় একজন করে রয়েছেন। গাজীপুর : জেলায় গত একদিনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। এনিয়ে গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল তিন হাজার ৭২৮ জনে। গতকাল গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজীপুরে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে গাজীপুর সদরে ১২ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় তিনজন। কুমিল্লা : কুমিল্লায় নতুন করে ১১৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ২৫ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১ জন, লাকসামে নয়জন, মনোহরগঞ্জে ১৩ জন, দাউদকান্দিতে ছয়জন, বুড়িচংয়ে দুজন, লালমাইয়ে পাঁচজন, আদর্শ সদরে দুজন, ব্রাক্ষণপাড়ায় একজন, চান্দিনায় তিনজন, হোমনায় ১৩ জন, দেবিদ্বার সাতজন, তিতাসে ছয়জন, চৌদ্দগ্রামে ১৮ জন, বরুড়ায় ১০ জন ও সদর দক্ষিণে আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মাদারীপুর : জেলায় আরও ৩৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার বিকালে ২৭৫টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। এর মধ্যে ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ এবং বাকিগুলো নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। পটুয়াখালী : জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫১ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৮ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ জন, গলাচিপায় ১০ জন, মির্জাগঞ্জে ৬ জন, কলাপাড়া ৫ জন ও বাউফলে ৪ জন রয়েছেন।  নোয়াখালী : জেলায় একদিনে নতুন করে আরও ২৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে, এ নিয়ে নোয়াখালী জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৯১ জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। চাঁদপুর : জেলায় আরও ৩৬ জনের করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭৯ জন।

এর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪ জন। নতুন পজিটিভ ৩৬টির মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৩ জন, ফরিদগঞ্জে সাতজন (মৃত ২), হাজীগঞ্জে তিনজন, কচুয়ায় দুজন, শাহরাস্তিতে তিনজন, মতলব উত্তরে একজন, মতলব দক্ষিণে পাঁচজন ও হাইমচরে দুজন।

সিলেট : সিলেটে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক নার্র্সিং কর্মকর্তা। নাসিমা পারভিন নামের ওই কর্মকর্তা সিলেটের করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ‘শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল’র সিনিয়র স্টাফ নার্স ছিলেন। গতকাল  সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুবরণ করেন। নাসিমা পারভিন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা গ্রামের জিন্নাত আলী মজুমদারের স্ত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জননী।

বিশ্বনাথ (সিলেট) : উপজেলায় আরও ছয়জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১০ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৭৩ জন। প্রাণ হারিয়েছে নারী ও শিশুসহ ৩ জন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর