শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুলাই, ২০২০ ২৩:৫৯

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

প্রতারণার ফাঁদ পেতে ফেঁসে গেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তার নাম শওকত শামীম (৪৯)। তিনি বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি-সংলগ্ন সান্তাক্লারায়। তথ্যপ্রযুক্তি-জগতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সিলিকন ভ্যালিতে ‘ইউপ্লাস’ নামক কোম্পানির অফিস খুলে সেই কথিত সফটওয়্যারের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রেও ধান্দাবাজির আশ্রয় নেন তিনি।

কোকাকোলা, ক্রাফট, নেটফিক্সের মতো কোম্পানিগুলো ইউপ্লাসের শেয়ার উচ্চ মূল্যে ক্রয় করেছে বলে গত বছর আগস্টে প্রচার করেন শওকত শামীম। ব্যবসায় আগ্রহীদের ফাঁদে ফেলতে শেয়ার বিক্রির পক্ষে ব্যাংকের ভুয়া বিবরণীও প্রকাশ করা হয়। এভাবে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শওকতের বিরুদ্ধে এফবিআই তদন্তের পর ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল কোর্টে ১৭ জুলাই মামলা করেছে। ২১ জুলাই শওকত আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শওকত শামীম কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গত সাত বছরে অনেকবারই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের অর্থ জালিয়াতি করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তার ক্রেতাদের মধ্যে ফরচুন ৫০০ কোম্পানিও রয়েছে বলে বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা তথ্য দেন শওকত শামীম। একপর্যায়ে একজন বিনিয়োগকারী যখন এসব দাবি প্রমাণে তথ্যের জন্য চাপ দেন, তখন শামীম জালিয়াতি গোপনের চেষ্টা হিসেবে ওই বিনিয়োগকারীকে ব্যাংকের ভুয়া বিবরণী প্রদর্শন করেন। সানফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে ১৭ জুলাই দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শওকত শামীমের প্রতারণাকর্মের সহযোগী ছিলেন ভারতীয় কৃষ্ণাপ্রসাদ নাদিগ। তার নেতৃত্বে ভারতের বেঙ্গালুরুসহ কয়েকটি সিটিতে স্থাপিত অফিসে ১২০ জন লোক নিয়োগ করা হয়। তারাই কথিত সেই সফটওয়্যারের আড়ালে উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ভূতভবিষ্যৎ জানিয়ে দিতেন।

 জানা গেছে, ২০১৩ সালে ইউপ্লাস প্রতিষ্ঠা করেন শওকত শামীম। ওই বছরের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার মূলধন জোগাড় করে ইউপ্লাস। এর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সংগ্রহ হয়। এই সময়ের মধ্যে ৩০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে এসব তহবিল সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। এসব বিনিয়োগকারীর মধ্যে ব্যক্তি, ছোট তহবিল কিংবা প্রতিষ্ঠানও ছিল। এসইসির সানফ্রান্সিসকো আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক এরিন ই স্নাইডার তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, শওকত শামীম ইউপ্লাস কোম্পানিতে বিনিয়োগে লাভের ফাঁপা গল্প ছড়িয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে এর আর্থিক কর্মক্ষমতা এবং ক্রেতার ভিত্তিবিষয়ক মিথ্যা তথ্য। লিংকডিন প্রোফাইল অনুযায়ী, শওকত শামীম ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজে লেখাপড়া করেছেন। এরপর ১৯৯৪ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজির মামলার বিস্তারিত তথ্য জানাতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংকালে অ্যাটর্নি ডেভিড এল এন্ডারসন এবং এফবিআইর স্পেশাল এজেন্ট জন এল বেনেট উল্লেখ করেন, শওকত শামীমের বিরুদ্ধে সিকিউরিটি প্রতারণার এবং জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমপক্ষে ২০ বছরের জেল এবং ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। অ্যাটর্নি এন্ডারসন বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালির ইমেজ ধ্বংসের অভিপ্রায়ে শওকত শামীম এমন ফাঁদ পেতেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইনকে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সিলিকন ভ্যালির ঐতিহ্য অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর।’ এফবিআই কর্মকর্তা জন বেনেট বলেন, ‘কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণা বরদাস্ত করা হয় না এ দেশে। আর এভাবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে আমেরিকায়।’ জানা গেছে, শওকত শামীম আরও চারটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সিলিকন ভ্যালিতে। এর মধ্যে রিদম নিউমিডিয়া ক্রয় করেছে ব্লিনক্স, আর বাইসাইট কিনেছে এওএল। ভারত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা সম্পর্কিত সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে শওকত শামীমকে বহুবার বক্তব্য উপস্থাপন করতে দেখা গেছে। আর এভাবেই নতুন উদ্যোক্তারা তার টোপে পা বাড়ান। বাণিজ্যে সফল হওয়ার অভিপ্রায়ে শওকতের শেয়ার ক্রয়ের পর সবাই পথে বসেছেন। অন্যদিকে সেই টাকায় দামি পোশাক আর গাড়ি ক্রয় করে বিলাসী জীবনযাপন করেন শওকত শামীম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর