শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ২৩:৪৬

ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে আপ্যায়ন ব্যয় কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে আপ্যায়ন ব্যয় কেন?
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

সরকারি অর্থ অপব্যয় নিয়ে সচিবদের সতর্ক করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সুষ্ঠু ও গুণগত মানসম্পন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে গতকাল শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভা করেন তিনি। সভায় ৩০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক বা বাড়াবাড়ি খরচসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে তারা প্রকল্পে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক খরচের কথা স্বীকার করেছেন।

এরপর এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বৈঠকে আমি বলেছি, করোনায় বাসায় বসে জুম মিটিং করলে  কেন আপ্যায়ন ব্যয় করা লাগবে। প্রকল্পের আওতায় আপ্যায়ন ব্যয় আছে, তার মানে এই নয় যে, অযৌক্তিকভাবে ব্যয় করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় অযৌক্তিক ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তুষ্টির কথাও সচিবদের জানিয়েছেন তিনি। সরকারের অর্থ যে জনগণের তা সচিবদের স্মরণ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যে কোনো সময়েই আমরা জনগণের অর্থ নিয়ে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নয়-ছয় করতে দেব না। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করি যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি আছে। সবাই মিলে আলোচনা করেছি, কীভাবে এটাকে উতরে আসা যায়। আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, করোনার জন্য নয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় যে কোনো পরিস্থিতিতে আমাদের পরিহার করতে হবে। এটা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় আমি শেয়ার করেছি। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি আমাদের এ সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এগুলো গ্রহণ করবেন না। তিনি আমাদের কাছ থেকে শোনেন, তা নয়। তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) নিজের নজরেও আসছে। বিশেষ প্রকল্পের রিভিশন নিয়ে তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করেন, এত রিভিশন কেন করেন। প্রথমে বললেন, দু-তিন বছরের প্রকল্প। তারপর এক বছরের মাথায় এসে বলেন, চার বছর লাগবে। আরেক বছর পর আবার এসে বললেন ব্যয় বাড়াতে হবে। এগুলো তিনি শৃঙ্খলাবিরোধী মনে করেন। এটা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রকল্পে গাড়ি কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এম এ মান্নান বলেন, অনেক সময় দেখা যায় প্রকল্পের গাড়ি কেনার জন্য যা বরাদ্দ থাকে, তার অর্ধেক দিয়ে বড় কর্মকর্তা গাড়ি কেনেন, বাকিগুলো ঠিকমতো হয় না। এখন থেকে এসব হবে না। কোন গাড়ি কত সিসির, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আমাদের আশস্ত করেছেন, তারা টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেছেন, কী কী শাস্তির বিধান আছে। পরিকল্পনা কমিশনে যারা প্রকল্প তৈরি করেন, তাদেরও আগের তুলনায় অনেক বেশি সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বা হিউম্যান ইরর হলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু বারবার একই ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে কথা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তার অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক ভুলভ্রান্তিও হয়ে থাকে। তা কাটিয়ে ওঠার জন্য জাতীয় পরিকল্পনা একাডেমিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। করোনাভাইরাসের মধ্যে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্মশালা ও কারিগরি কমিটির সভা করেও আপ্যায়ন বাবদ খরচ ৫৭ লাখ টাকা দেখিয়েছিল, যা আলোচনার জন্ম দেয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর