শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২১

বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের রেজাউল জয়ী

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের রেজাউল জয়ী
রেজাউল করিম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। গত রাত ১টা ৫ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এ সিটির মোট ভোট কেন্দ্র ৭৩৫টি। এর মধ্যে ৬৬৮ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯১৯ এবং বিএনপির মেয়র মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৪৭ হাজার ১১২ ভোট। তবে সংঘর্ষের কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রয়েছে।

ভোট শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাস করি, আস্থা রাখি। তবে নির্বিঘ্নে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।’ অন্যদিকে দুপুরে এজেন্ট বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপির প্রার্থী। ভোট গ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোনো নির্বাচনই হয়নি। নির্বাচনের নামে হামলা, খুন ও সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচনই যখন হয়নি সেখানে ভোট বর্জন কিংবা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নই আসে না।’ অন্যদিকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. জান্নাতুল ইসলাম।

গতকাল দফায় দফায় সংঘর্ষ-সহিংসতা, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, প্রাণহানি ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ৫টি ইভিএম ও পুলিশ-নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ৩টি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আমবাগান এলাকায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন চলাকালে পাহাড়তলীতে আরও একজনের মৃত্যু হলেও পুলিশ বলছে, এটা পারিবারিক সংঘাতের মৃত্যু। সংঘর্ষের কারণে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী এবং বিএনপি সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে।

এ সিটির নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। তবে মেয়র পদে প্রধান দুই দলের দুই প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৭২ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এবার নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন এবং নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।

জানা গেছে, ২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দেন ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা। ২০১৫ সালের নির্দলীয় ভোটে একটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হয়। গত বছর ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সব শেষ আবারও ১৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে ভোট নেওয়ার নতুন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

মেয়র প্রার্থীরা : চসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে সাতজন অংশ নেন। এদের মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ)। অন্যদিকে ছোট ৪টি দলের মধ্যে প্রার্থী রয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আবুল মনজুর (আম)। অন্যজন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)। এবার নগরীর ১৪টি সংরক্ষিত এবং ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ছোট দলগুলোর কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। চসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীসহ ২৩৬ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ছাড়া একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত রয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ ওয়ার্ডে ভোট হবে।

চসিকের ষষ্ঠ ভোটের ফল : ব্রিটিশ আমলে গঠিত চট্টগ্রাম পৌর করপোরেশন সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১-১৯৯৩ মেয়াদে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এই পদে ছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্রথম সিটি ভোটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। টানা তিনবার তিনি ভোটে লড়ে জয়ী হয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন। তবে মহিউদ্দিন ২০১০ সালে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মন্্জুর আলমের কাছে প্রায় ১ লাখ ভোটে পরাজিত হন। মন্্জুর এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রার্থী হন। তবে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে তিনি হেরে যান। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ সিটি নির্বাচনে ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মন্্জুর। ওই নির্বাচনে মোট ৭১৯ কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী হাতি প্রতীকের আ জ ম নাছির পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মন্জুর আলম কমলা লেবু প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ ভোট।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর