শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩২

সব জেলায় পৌঁছেছে টিকা নিবন্ধন করা যাবে কেন্দ্রেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব জেলায় পৌঁছেছে টিকা নিবন্ধন করা যাবে কেন্দ্রেও

সব জেলায় পৌঁছেছে করোনার টিকা। সারা দেশে নেওয়া হয়েছে সব প্রস্তুতি। অনলাইন অ্যাপে নিবন্ধনে সমস্যা হলে সরাসরি কেন্দ্রে টিকার জন্য নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকার জন্য কেউ অনলাইনে নিবন্ধন করতে না পারলে টিকাদান কেন্দ্রেও সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। টিকার জন্য সবাই আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের প্রতি আহ্বান আপনারা  টিকা নিয়ে অন্যদের উৎসাহিত করুন। গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে বিশ্ব এনটিডি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক রোগ এসেছে, সেগুলো ভ্যাকসিনে নির্মূল হয়েছে। দেশে সাতটি রোগ এনটিডি হিসেবে রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো নির্মূলের পথে। ভ্যাকসিন ছাড়া করোনা নির্মূল দুরূহ। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ ভ্যাকসিন। এর মধ্যে সব জেলায় ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী একযোগে শুরু হবে ভ্যাকসিন কার্যক্রম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলার জনগণকে টিকা কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানাই। অ্যাপে না পারলে সাহায্য নেন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সাহায্য নিতে পারেন। টিকাদান কেন্দ্রে গেলে ফরম পূরণ করে দিলে তারাই নিবন্ধন করে দেবে। কাজেই সব ব্যবস্থা আছে। আপনি টিকা নেন, সুস্থ থাকেন, দেশকে সুস্থ রাখেন। সব টিকারই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। অক্সফোর্ডের টিকারও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যারা টিকা নিয়েছেন তারা সবাই সুস্থ আছেন।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, দেশে কালাজ্বর, জলাতঙ্ক, কৃমি, গোদরোগ, সাপের কামড়ে মৃত্যুর মতো এনটিডি নির্মূলে কাজ চলছে। দেশে প্রতি বছর আড়াই লাখ মানুষকে কুকুর কামড়ায়, এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬ জন। প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাপের কামড় খায়, মারা যায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ। আমরা এটাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনব।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সেনাল, স্বাচিপ মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. বারদান জং রানা, অ্যাসেন্ড বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. শারদ বারকাতাকি প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর টিকার নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা প্ল্যাটফরমের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সীমিত আকারে উন্মুক্ত করা হয়।

 ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলেও পাওয়া যাবে। তখন মোবাইল অ্যাপ দিয়েও নিবন্ধনের কাজটি করা যাবে। টিকা নিতে আগ্রহী সবাইকেই নিবন্ধন করতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার যে কমে এসেছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন শনাক্তের হার ৩ শতাংশের ঘরে আছে। আমরা একটা ভালো পর্যায়ে আছি। এটা ধরে রাখতে হবে। এটা ধরে রাখতে হলে কিছু কাজ আমাদেরও করতে হবে। মাস্ক পরতে হবে নিয়মিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর