শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

ট্র্যাজেডির নাম চট্টগ্রাম

মেজবাহ্-উল-হক

ট্র্যাজেডির নাম চট্টগ্রাম
ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মেয়ার্স

টেস্ট ক্রিকেট এমনই- বিচিত্র, বর্ণময় এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। কখনো সুখের সাগরে ভাসায়, কখনোবা বুকে চাপিয়ে দেয় পাহাড়সম কষ্টের বোঝা! ক্যাপ্টেন মুমিনুল হক কি এক মুহূর্তের জন্যও ভেবেছিলেন, প্রথম ইনিংসে যে দলটির আড়াই শ করতেই নাভিশ্বাস কষ্ট হচ্ছিল সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজই ৩৯৫ রানের এভারেস্টসম টার্গেটে পৌঁছে যাবে! এমন ম্যাচে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে হার যেন পুরো ক্রিকেট বিশ্বকেই অবাক করে দিয়েছে। একটা সময় চট্টগ্রাম ছিল ক্রিকেটে টাইগারদের ‘পয়মন্ত’ ভেন্যু। ঢাকায় হারলেও বন্দর নগরীতে সাফল্য ছিল অনিবার্য। কিন্তু সেই চট্টগ্রাম যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই ভেন্যুতে সর্বশেষ ম্যাচে ‘পুঁচকে’ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও হারতে হয়েছে। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডকে ৩১৭ রানের টার্গেট দিয়েও জিততে পারেনি সাগরিকায়। সেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই গতকাল আরেকবার বেদনায় নীল মুমিনুলরা। এখন আর পয়মন্ত ভেন্যু নয়, টাইগারদের ট্র্যাজেডির নাম চট্টগ্রাম। টেস্ট ম্যাচে জিততে হলে সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি যে বুকে অসীম সাহস থাকা দরকার তা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মেয়ার্স। অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি। সাদা পোশাকে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে খেললেন হার না মানা ২১০ রানের ইনিংস। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট, উইন্ডিজের ২৮৫ রান। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন কোথায় সকালের সেশনে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপ তৈরি করবেন, তা না করে উল্টো রক্ষণাত্মক কৌশলেই এগোলেন মুমিনুল। এমনকি চার বোলারের বাইরে অন্য কারও হাতে বল তুলে দিয়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রয়োজনই বোধ করলেন না। টাইগার ক্যাপ্টেনের দুর্বলতাকে পুঁজি করে ক্যারিবীয়রা এগিয়ে গেছেন বীরচিত্তে। দলপতি ক্রেইগ ব্রাথওয়েট ‘ব্রিগেট’ যেভাবে ছক কষেছেন, সেভাবেই বাইশগজে বাস্তবায়ন করেছেন ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৫৯ রানে দলীয় তৃতীয় উইকেট পতনের পরও এনক্রমা বোনারকে সঙ্গে নিয়ে ২১৬ রানের জুটি গড়ে ইতিহাসের ‘বরপুত্র’ হয়ে গেলেন অভিষিক্ত মেয়ার্স। ক্যারিবীয়দের এই জয় টেস্টের ইতিহাসে এশিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড। টাইগারদের টেস্ট খেলার ২১ বছরের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেদনার ম্যাচ এটি! ২০০৩ সালে মুলতানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও এক ট্র্যাজেডি আছে। তবে সেই ম্যাচটিও এই ম্যাচের মতো এতটা সহজ ছিল না। ঘরের মাঠ, পছন্দের উইকেট- তারপরও কেন এমন হার? চট্টগ্রামে ট্র্যাজেডির ম্যাচের ব্যবচ্ছেদ করলে মুখ্য যে কয়টি বিষয় সামনে আসে তা হচ্ছে- সাকিব আল হাসানের ইনজুরি, উইকেট শিকারি বোলারের অভাব, ক্যাপ্টেন্সিতে অদক্ষতা। এ ছাড়া ক্যাচ মিস, রিভিউ না নেওয়া, ফিল্ডিং মিসের বিষয়গুলো তো আছেই। এক সাকিব আল হাসান না থাকলে যে টিম ম্যানেজমেন্টের মাথা দিয়ে কোনো পরিকল্পনা আসে না তা বোঝা গেল আরেকবার। তাই পরের ম্যাচে সাকিবকে খেলার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু যদি সাকিব শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারেন, তাহলে ঢাকা টেস্টে কী হবে? চট্টগ্রাম ট্র্যাজেডির পর শোকের চেয়ে এখন ঢাকা টেস্টের দুশ্চিন্তাই টিম ম্যানেজমেন্টে ঘুম হারাম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।