শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২১

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নরওয়ে, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল গণভবনে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বৃহত্তর বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূতগণ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন ও বিনিয়োগের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল  কায়েস এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। প্রথমে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর নরওয়ের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সোভেনডেন এবং সর্বশেষ বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা মো. হাশিম সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরওয়েকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বৃহত্তর বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত। বাংলাদেশে যদি বিনিয়োগ করা হয় তবে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী নরওয়েকে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে, বিশেষত আইসিটি এবং পরিবেশবান্ধব পাট খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এখন ব্যবসায়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সোভেনডেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরপরই যারা বাংলাদেশকে প্রথমে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম তার দেশ। তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী।

মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার হাজনা মো. হাশিম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানি করার জন্য তার দেশের ইচ্ছা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশে নির্মিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশের এলএনজি দরকার। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই দেশগুলোর মধ্যে পিটিএ (প্রিফারেনশিয়াল বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর সম্ভব হবে। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে সর্বদা বাংলাদেশের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী এই রাষ্ট্রদূতকে বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে স্বেচ্ছায় ভাসান চরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই হবে রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তুরস্ক সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর পরই তুরস্কের ফার্স্ট লেডির বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলো পরিদর্শন করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সফর বিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকালে এই সম্পর্ক আগামীতে আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সে দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাতেও সন্তোষ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামতে সহযোগিতার জন্যও তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সম্ভাব্য সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে তার সুস্বাস্থ্য এবং সাফল্য কামনা করেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকেও শুভেচ্ছা জানান। তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নামে রাজধানী ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করায় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।