শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৮

মাহিন্দা রাজাপাকসে

উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে শ্রীলঙ্কা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে শ্রীলঙ্কা

প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জনে শ্রীলঙ্কা পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি বলেন, জাতিরাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা শ্রীলঙ্কা অনুভব করে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিনে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দুই দেশের মধ্যে মেরিটাইম, শিপিং ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়। বঙ্গোপসাগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্লু ইকোনমির প্রস্তাব প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে আসছে আমাদের মেরিটাইমের বিষয়ে। বাংলাদেশকে এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। করোনা মহামারীর নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার মানুষের পক্ষে সংহতি জানাতে এখানে অংশগ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এমনো ধারণা করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতাব্দী থেকে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের জোরালো বাণিজ্য সম্পর্ক। ১৯৭১ সালে নবগঠিত বাংলাদেশের সঙ্গে যারা প্রথমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল শ্রীলঙ্কা তাদের অন্যতম। শেখ মুজিবুর রহমান এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন যে, বাংলাদেশ নামে নতুন একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। এজন্য তিনি সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন ১৯৭১ সালে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে যা ঘটেছে, তা আমি অনুভব করতে পারি। এই দেশবাসী স্বাধীনতার জনককে হারান। সঙ্গে সঙ্গে কন্যারা হারান তার পিতা-মাতা ও ভাইদের। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই আয়োজনে যোগ দিতে গতকাল সকালে শ্রীলঙ্কান এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে রাজাপাকসেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে। মাহিন্দা রাজপাকসেকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছালে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল এ সময় গার্ড অব অনার দেয়। গার্ড পরিদর্শন শেষে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। সেই ছবি প্রকাশ করে টুইটারে তিনি লিখেছেন, মুক্তিকামী জনতা, যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই মুক্ত, স্বাধীন আর গর্বিত বাংলাদেশের জন্য, পুরো বাঙালি জাতির ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির সৌধে এসে শ্রদ্ধা জানানোর এ অভিজ্ঞতা অনন্য। দুই দিনের সফরের শেষ দিনে আজ রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পরে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে দুই দেশ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শ্রীলঙ্কাকে চায় বাংলাদেশ : বিডিনিউজ জানায়, নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরাতে ‘মিয়ানমারের বন্ধু’ শ্রীলঙ্কার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল বিকালে ঢাকা সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই প্রত্যাশার কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। রাজাপাকসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়ে মোমেন বলেন, উনি বললেন, ‘নিশ্চয়। দিস ইজ এ সিরিয়াস ইস্যু, এ ব্যাপারে আমরা আপনাদের পাশে আছি’। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য পদে বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার জন্যও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, আমি বলেছি, আমরা হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সদস্য, আগামীতেও হতে চাই। তিনি বলেছেন, অবশ্যই তারা ভোট দেবেন। আগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব চুক্তি হয়েছিল, সেগুলো নিয়েও রাজাপাকসের সঙ্গে কথা হয়েছে মোমেনের।


আপনার মন্তব্য