শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০২১ ২৩:০৫

শাল্লায় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা

প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বার গ্রেফতার

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মেম্বারকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই  সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান জানান, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে প্রযুক্তির সহায়তায় স্বাধীন মেম্বারকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে হামলা-ভাঙচুরের দুটি মামলায় গতকাল আরও আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ দুই মামলায় ৩০ জন গ্রেফতার হলেন। জানা যায়, ১৭ মার্চ শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটে উঠে আসে স্বাধীন মেম্বারের নাম। হামলার পরদিন স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মামলায় স্বাধীন মেম্বারকে আসামি করা হয়। স্বাধীনের বাড়ি শাল্লার পাশের দিরাই উপজেলার নাচনি গ্রামে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীর বেশির ভাগই আসেন স্বাধীনের গ্রাম থেকে। স্বাধীন মেম্বারও হামলাকারীদের দলে ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই হামলা হয়। স্বাধীন মেম্বারের সঙ্গে জলমহাল নিয়ে নোয়াগাঁওবাসীর বিরোধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। এর জেরে স্বাধীন মেম্বার মামুনুল অনুসারীদের উসকে দিয়ে তার নেতৃত্বে পরিকল্পিত হামলা চালান।

এদিকে নোয়াগাঁওয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বার যুবলীগের কেউ নন বলে দাবি করেছে জেলা যুবলীগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দলীয় পরিচয় প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করা হয়। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মঞ্জুর আহমদ এ সময় বলেন, ২০০৭ সালের পর থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। সেখানে স্বাধীন মেম্বার কী করে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হতে পারেন? অন্যদিকে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট বিরোধী পক্ষের ইন্ধনে সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এখন বুঝতে পেরেছি এ ঘটনাটি বাইর থেকে যেমন শুনেছি ঠিক সে রকম নয়, মূলত আমাদের বিরোধী পক্ষ বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত মিলে ঘটিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে যেভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা ম্লান করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। অথচ ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সরকার ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা ছিল না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উসকানিমূলক কথা বলে তাদের হামলা করতে অনুপ্রাণিত করেছে সরকারবিরোধী ওই মহল।’ এদিকে গতকাল দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নোয়াগাঁও পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা হামলার শিকার গ্রামের লোকজনকে সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সহ অন্য নেতৃবৃন্দ ছিলেন। প্রসঙ্গত, ১৫ মার্চ দিরাইয়ে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। পরদিন মামুনুলের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন নোয়াগাঁওয়ের এক হিন্দু যুবক। এর জেরে হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামটিতে হামলা চালিয়ে ৮৮টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ৮০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামি করে শাল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।