শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৫৮

ডি-৮ এর কল্পনার সঙ্গেই জড়িত ছিলেন শেখ হাসিনা

জুলকার নাইন

ডি-৮ এর কল্পনার সঙ্গেই জড়িত ছিলেন শেখ হাসিনা
আবুল হাসান চৌধুরী

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, ১৯৯৬ সালের এক পর্যায়ে ওআইসিকে আরও গতিশীল করতে এর মধ্যে একটা গ্রুপ করার চিন্তা করা হয়। ওআইসির বিকল্প নয় বরং ওআইসির অভ্যন্তরে থেকেই এই গ্রুপটি গঠনের চিন্তা করা হয়। এ বিষয়ে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তুরস্কের সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী নেকমেত্তিন এরবাকান, ইন্দোনেশিয়ার তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবি, মালয়েশিয়ার সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রথম যে আলোচনা হয়, সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরে                আটটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ নিয়ে তৈরি হয় ডেভেলপিং-৮ বা ডি-৮। বলতে গেলে একেবারে ডি-৮ এর কল্পনালগ্নেই বাংলাদেশ এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ডি-৮ সূচনা নিয়ে ইস্তাম্বুলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পরের বছর ১৯৯৭ সালে প্রথম সামিট হবে ইস্তাম্বুলেই। দ্বিতীয় সামিট হবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় দেশ ইন্দোনেশিয়ায়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া সে সময় তাদের অর্থনৈতিক অক্ষমতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করে। ইন্দোনেশিয়ার পরের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সে সময় সেখানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, আমি আপনাদের একমাত্র বোন হিসেবে এই সামিটের আয়োজন করতে চাই। পরে সবাই এ আহ্বানে সাড়া দেন। ফলে ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হয় ডি-৮ এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন। তিনি বলেন, ডি-৮ এর এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোকপাত করেছেন। কারণ এ সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  নিতে পারে আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। আর এই আসিয়ানে গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া আছে এই ডি-৮ এ। পাশাপাশি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ নতুনভাবে অনলাইন শিক্ষা বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবার সাউথ ইস্ট এশিয়ান কো-অপারেশনের (সিয়াকো) কথা উল্লেখ করেছেন। সিয়াকো নিয়ে সালাউদ্দিন কাশেম খান দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান বাংলাদেশে এসেছেন, ১৭০টি দেশের অভিনন্দন বার্তা এসেছে ও বিভিন্ন দেশে পার্লামেন্টে অচিন্তনীয়ভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আদেশে এসব কর্মকান্ডের পেছনে থাকা জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ তাঁদের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানাই।

এই বিভাগের আরও খবর