শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০২

দ্বিতীয় জান্নাতও মামুনুলের স্ত্রী!

দাবি জান্নাতের ভাইয়ের

সাখাওয়াত কাওসার

দ্বিতীয় জান্নাতও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌসের ভাই শাহজাহান সাজু। গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এই নারীর সঙ্গে এক বছর আগে মাওলানা মামুনুলের বিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহজাহান। এ হিসাবে মাওলানা মামুনুলের কথিত স্ত্রীর সংখ্যা হবে দুইজন। জান্নাতুল ফেরদৌস হবেন মামুনুলের তৃতীয় স্ত্রী। শনিবার রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইনে ‘মামুনুল হকের আরেক  জান্নাতের সন্ধান’ শিরোনামে এবং প্রিন্ট ভার্সনে ‘আরেক জান্নাতের সন্ধান : গোয়েন্দাদের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর গতকালই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলেন ওই নারীর ভাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান সাজু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘মামুনুল সাহেব শনিবার (১০ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় আমাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি আমার বোনকে বিয়ের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, ২০২০ সালে তিনি আমার বোনকে বিয়ে করেন। এ-সংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছেন।’ তবে এটি কাবিননামা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে তৃতীয় বিয়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার মামুনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে ফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কল ব্যাক করেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে মাস্টার্স করার সময় ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় মামুনুল হকের। ওই পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। আড়াই বছর আগে ওই নারীর ডিভোর্স হয়। এরপর ওই নারীকে কেরানীগঞ্জের একটি মহিলা মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেন মামুনুল হক। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার ক্ষেত্রে মামুনুল হক ভূমিকা রেখেছেন। ওই নারীকে ডিভোর্স করিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় রাখেন মামুনুল। ওই বাসায় মাঝে মধ্যেই যাতায়াত করতেন তিনি। জানা গেছে, রিসোর্টকান্ডের এই নারীকে মামুনুল হক তার বড় বোন দিলরুবার মোহাম্মদপুরের বাসায় রেখেছেন। ওই ঘটনার পর থেকে দিলরুবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান তার স্বজনরা।

প্রসঙ্গত, ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীকে নিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হন মামুনুল হক। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে জান্নাত আরাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন মামুনুল। যদিও এর সপক্ষে কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই মামুনুল হকের তৃতীয় বিয়ের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

জান্নাত আরা ঝর্ণা নিখোঁজ দাবি করে ছেলের জিডি : হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা নিখোঁজ দাবি করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন (জিডি) ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান। জিডিতে আব্দুর রহমান তার জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। শনিবার রাতে পল্টন থানায় এই জিডি করা হয়। 

আব্দুর রহমান তার জিডিতে উল্লেখ করেন, ?‘আমি  বেশ কিছু দিন ধরে আমার মা জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের বাসায় যাই। সেখান থেকে বাড়ির মালিক আমাকে জানান, ৯ এপ্রিল তিনি বাসা থেকে  বের হয়ে গেছেন। আর আসেননি। আমি আমার মায়ের কক্ষে প্রবেশ করি এবং দেখতে পাই আমার মায়ের ব্যক্তিগত তিনটি ডায়েরি। একটি সাদা রঙের ক্লিপ দিয়ে স্পাইরেল করা নীল ও ধূসর রঙের। অন্য একটি ডায়েরি আরবিতে লেখা এবং নিচের দিকে জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম পলাশ নরসিংদী  লেখা। সেটিতে কভারপেজ ছাড়া ১ থেকে ৮৭ পৃষ্ঠা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য রঙের আরেকটি ডায়েরি আমার হস্তগত হয়।’

জিডিতে আরও বলা হয়, ‘আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পল্টন মোড়ে  পৌঁছালে, অজ্ঞাত  কয়েকজন আমাকে অনুসরণ করে। এতে আমার নিকট প্রতীয়মান হয় আমার জীবন, আমার মা জান্নাত আরা ঝর্ণার জীবন এবং ডায়েরিগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এমতাবস্থায় আমার জীবন, আমার মায়ের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সাধারণ ডায়েরি করলাম।’

এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।