শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৫৮

জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত মামুনুল হককে

হেফাজতের আরও দুই নেতা গ্রেফতার মাদানীসহ চারজন রিমান্ডে

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক

Google News

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি তার পারিবারিক জীবন, সাম্প্রতিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন। তবে মামুনুলের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গতকাল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনেও হেফাজত নেতা-কর্মীদের উসকানি, রাষ্ট্রক্ষমতা, সরকার পতনসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশদভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি হেফাজত এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকসহ রিমান্ডে থাকা বিভিন্ন নেতার মুখোমুখি ও আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অর্থের জোগানদাতা এবং সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টাসহ নানা বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই বাছাই চলছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না।

রিমান্ডে মামুনুলকে তার কয়েকটি ওয়াজ ধরে কথা হয়, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়েছেন। লেখক শাহরিয়ার কবিরকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হামলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এসব বক্তব্যের কারণ জানতে চাওয়া হলে মামুনুল বলেন, জোশ চলে আসার কারণে এসব বক্তব্য দিয়েছেন।

গত রবিবার মামুনুলকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, লালবাগ, ওয়ারীসহ বিভিন্ন থানায় এবং নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার মামলায় রিমান্ড শেষ হলে বিভিন্ন মামলায় মামুনুলকে আলাদাভাবে রিমান্ডে চাইবে ডিবি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে সিআইডিও।

হেফাজতের তিন নেতা রিমান্ডে : হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী কাসেমীকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন। এর আগে, পল্টন থানা পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। গত ২০ এপ্রিল ডিবির গুলশান বিভাগ টিম বাসাবো এলাকা থেকে কোরবান আলী কাসেমীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী এবং মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলামের পৃথক তিন মামলায় সাত দিন করে মোট ২১ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন একই বিচারক। এর আগে, মতিঝিল থানার দুই মামলা এবং পল্টন থানার একটি মামলায় আসামিদের ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। এর আগে, ২০১৩ সালের রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় পল্টন থানার একটি মামলায় গত ১৫ এপ্রিল এ দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

রফিকুল ইসলাম মাদানী ফের রিমান্ডে : রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে রাজধানীর মতিঝিল ও তেজগাঁও থানার পৃথক দুই মামলায় নয় দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান ভার্চুয়াল শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল বিভাগের পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এ ছাড়া অনলাইনে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শোয়েব উদ্দিন আহম্মেদ সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মতিঝিল থানার মামলায় চার দিন এবং তেজগাঁও থানার মামলায় পাঁচ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ভোরে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দার নিজ বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে গাজীপুরের গাছা থানায় আইসিটি আইনে মামলা করা হয়। এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। রফিকুল ইসলাম মাদানীও অংশ নেন। ওই দিন তাকে আটক করলেও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সেদিন পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। মিছিলকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় মতিঝিল থানার এসআই মিন্টু কুমার বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন।

হেফাজতের আরও দুই নেতা গ্রেফতার : হেফাজতে ইসলামের আরও দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুফতি শারাফত হোসাইন। গতকাল বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে খুরশিদ আলম কাসেমীকে এবং ভাটারা থেকে শারাফত হোসাইনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি জানান, কাসেমী ও শারাফতের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর