শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মে, ২০২১ ২৩:৩৮

স্পিডবোট ডুবে ২৬ প্রাণহানি

মালিক-চালকের নামে মামলা

প্রতিদিন ডেস্ক

মাদারীপুরের শিবচরে বাল্কহেডকে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোট ডুবে ২৬ প্রাণহানির ঘটনায় বোটের মালিক-চালকসহ চারজনের নামে মামলা হয়েছে। শিবচর থানায় সোমবার গভীর রাতে মামলাটি করে নৌ-পুলিশ। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের মধ্যে আছেন ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খান, স্পিডবোটের মালিক চান্দু মিয়া, রেজাউল ও চালক শাহ আলম। এদিকে খুলনার তেরখাদায় চলছে মাতম। মীম কাঁদছে বাবা-মার জন্য। দুর্ঘটনায় সে হারিয়েছে পরিবারের সবাইকে। এ ছাড়া পদ্মা নদীর শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাদারীপুর প্রতিনিধি এবং খুলনা ও বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদকের পাঠানো খবর-বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের কাঁঠালবাড়ী ঘাট এলাকায় সোমবার সকালে দাঁড়িয়ে থাকা বাল্কহেডে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায় যাত্রীবোঝাই স্পিডবোট। সেখান থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় শিশুসহ ২৫ জনের লাশ। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও একজন। জীবিত উদ্ধার করা হয় স্পিডবোটের চালকসহ পাঁচজনকে। শিমুলিয়ার নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন সোমবার বিকালে জানান, স্পিডবোটটির নিবন্ধন ছিল না। এর চালকের ছিল না দক্ষতার সার্টিফিকেট।

আহত চালক শাহ আলমকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিবচর থানার ওসি মিরাজ বলেন, স্পিডবোটটি যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে কাঁঠালবাড়ীর কাছাকাছি পৌঁছলে ঘাটে নোঙর করে রাখা বাল্কহেডের পেছনে এর ধাক্কা লাগে। এতে ২৬ জন নিহত হন। এ ঘটনায় কাঁঠালবাড়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই লোকমান হোসেন বাদী হয়ে দায়িত্বে অবহেলা ও হত্যার অভিযোগ এনে শিবচর থানায় একটি মামলা করেছে।

বাবা-মার জন্য কাঁদছে মীম : পদ্মায় নিহত কাপড় ব্যবসায়ী মনির শিকদার, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের দাফন করা হয়েছে খুলনার তেরখাদার পারোখালী গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সকালে পারোখালী গ্রামের মাঠে নামাজে জানাজায় ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঢল। শোকাবহ পরিবেশে বাবা-মা, বোনের জন্য কাঁদছে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আট বছরের ছোট্ট শিশু মীম। স্থানীয়রা জানান, নিকটজনদের হারিয়ে মীম অসহায় হয়ে পড়েছে। তার কান্না থামছে না। অবুঝ শিশুটিকে সান্ত¡না দিচ্ছেন স্বজন-প্রতিবেশীরা। মীম এখন কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে তার ভবিষ্যৎ নিয়েই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সবাই। মীমের কান্নায় চোখ ভিজে উঠছে তাদেরও। জানা যায়, ঢাকার মিরপুর-১১ মসজিদ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মনির শিকদারের মা লাইলি বেগম (৯০) বার্ধক্যের কারণে মারা যান রবিবার রাতে। তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে ঢাকা থেকে তেরখাদার উদ্দেশে স্ত্রী এবং তিন মেয়েকে নিয়ে রওনা দেন মনির শিকদার। কিন্তু সোমবার সকালে পদ্মায় বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে মনির শিকদার, স্ত্রী হেনা বেগম ও দুই মেয়ে সুমী (৭), রুমি খাতুন (৪) মারা যায়। বেঁচে থাকে শুধু মীম।

বরিশালে চারজনের দাফন সম্পন্ন : স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় উলানিয়া করোনেশন স্কুল মাঠে সাইফুল ইসলাম এবং সহোদর সাইফুল হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় পাতারহাট হাইস্কুল মাঠে মুনির চাপরাশির জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। পরে তাদের লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।