শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মে, ২০২১ ২৩:১১

সদকায়ে ফিতর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাসায়েল

মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী

সদকায়ে ফিতর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাসায়েল
Google News

সদকায়ে ফিতর ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা পবিত্র রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করতে হয়। এটি জাকাতেরই একটি প্রকার। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখতে গিয়ে সাধারণত আমাদের অনেক ভুলত্রুটি হয়ে যায়। সেই ভুলত্রুটির ক্ষতিপূরণের জন্য এবং অসহায় নিঃস্ব লোকদের আহার জোগানোর জন্য শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদতের নাম সদকায়ে ফিতর।

হাদিস শরিফে সদকায়ে ফিতর আদায়ের জন্য বেশ তাকিদ প্রদান করা হয়েছে। এক হাদিসে আছে, হজরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকায়ে ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫১২)।

আরেক হাদিসে আছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকায়ে ফিতর জরুরি করেছেন, রোজাদারকে অনর্থক, অশালীন কথায় ও কাজে রোজাদারের  যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করার জন্য এবং দরিদ্র ও অসহায় লোকদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস ১৬০৯)।

এ কারণেই নববি যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে সদকায়ে ফিতরও নিয়মিত আদায় করে আসছেন।

ইসলামী শরিয়ত মতে, সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। কারও কাছে যদি জাকাতের নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকে তাহলে তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে। তবে এর জন্য জাকাতের মতো বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয় (ফাতহুল কাদির : ২/২৮১)। নিজের পক্ষ থেকে, নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এ ছাড়া বাবা-মা, স্ত্রী ও সাবালক সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর প্রদান করা উত্তম। তবে ওয়াজিব নয়। হ্যাঁ, সাবালক সন্তান পাগল হলে তার পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬১)। ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগেই সদকায়ে ফিতর আদায় করা উত্তম। তবে সে সময়ের আগে রমজান মাসেও আদায় করা যায়। কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারলে ঈদের নামাজের পরেও দেওয়া যাবে (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯২)। সদকায়ে ফিতর আদায়ের জন্য পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায় : জব, খেজুর, পনির, কিশমিশ ও গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে জব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে প্রত্যেকের জন্য এক ‘সা’ দিতে হবে। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা ‘সা’ দিতে হবে। (রুদ্দুল মুহতার :৩/৩২২)। উপরোক্ত খাদ্যদ্রব্যের যে কোনো একটি দ্বারাই সদকায়ে ফিতর আদায় করা যাবে। তদ্রুপ এর যে কোনো একটির মূল্য দ্বারা আদায় করলেও সদকায়ে ফিতর আদায় হয়ে যাবে। মূল্যগত দিক থেকে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ব্যবধান থাকলেও সবচেয়ে কম দামের বস্তু দ্বারা অথবা সবচেয়ে কম দামের বস্তুর মূল্য দ্বারা যদি কেউ সদকায়ে ফিতর আদায় করে, তাহলেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পণ্য দিয়ে সদকায়ে ফিতর আদায় করা এবং একটু বেশি পরিমাণ আদায় করা।

 

আমাদের দেশে সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রে অনেকের মাঝে এক অদ্ভুত নিয়ম প্রচলিত আছে। প্রতি বছর ইসলামী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতরের যেই সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। আমরা অনেকেই ওইটা দিয়েই সদকায়ে ফিতর আদায় করে থাকি। অথচ উত্তম হলো সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোৎকৃষ্ট মানের পণ্য দিয়ে সদকায়ে ফিতর আদায় করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, মুফাসসির, খতিব ও টিভির ইসলামী প্রোগ্রাম উপস্থাপক।