শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:১৮

দেশীয় শিল্পমালিকদের চাপে রাখা যাবে না

---- মো. জসিম উদ্দিন

দেশীয় শিল্পমালিকদের চাপে রাখা যাবে না
Google News

করপোরেট কর ও ভ্যাট আদায়ের নামে দেশীয় শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত চাপে রাখা যাবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। করোনা মহামারী সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খ্যাতনামা এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ছোট থেকে বড় কোনো শিল্প খাতেই প্রণোদনা প্যাকেজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। শিল্পের মূলধনি বিনিয়োগে এখনো ব্যাংকগুলো দ্বিধাদ্বন্দ্বে^ আছে। ফলে বিনিয়োগের অবস্থা খারাপ। এমন পরিস্থিতিতে আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চাই না। সত্যিকারের বাজেট চাই। রাজস্ব আদায়ের নামে দেশীয় বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তা থেকে শুরু করে গ্রামের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের চাপে রাখা যাবে না।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরেই বিনিয়োগ হয়নি। করোনার কারণে শিল্প খাতের এ বিনিয়োগ আরও স্থবির হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি যা হচ্ছে, তা অবকাঠামো খাতে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির ফসল। বস্তুত মহামারীতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে চাহিদাও কমেছে। ফলে শিল্প খাতে বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে ব্যাংকগুলো। আগেই আমাদের দেশে বিনিয়োগের অবস্থা খারাপ ছিল, করোনার প্রভাবে আরও খারাপ হয়েছে। আবার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত, শিপিং, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং ই-কমার্সের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

তার মতে, দেশে সব স্তরের ছোট-বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে পারলেই অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। এখন সামনের দিনগুলোয় নীতি প্রণয়নে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। ব্যবসা ও শিল্পমালিকদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসায়ীদের যুক্ত করে এগোতে হবে। ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতির বিকাশ এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের স্থপতি, আমাদের মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০, ভিশন-২০৪১ ও একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ও মানুষ। নতুন নতুন সম্ভাবনায় প্রতিনিয়ত সাড়া দিয়ে এক নির্ভয় দূরদর্শী নেতৃত্ব সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। এ ক্ষেত্রে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আগামী দিনে সারা দেশে শিল্পায়নের বিকল্প নেই। মো. জসিম উদ্দিন মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যখন বাস্তবায়ন হবে, সেখানে কাস্টম, পরিবেশের কী হবে, সমস্যাগুলো কী সেটা চিহ্নিত হয়নি। এসব পলিসি ঠিকমতো করা না গেলে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলেই শিল্পায়ন হবে। দেশ শিল্পায়নের দিকে এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যেসব দুর্বলতা আছে তা দূর করতে হবে। সেবা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই দরকার। সেবা খাত নিয়েও কাজ করতে হবে। সেখানে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। একটি দেশ যখন মধ্যম আয়ের হয় তখন সেবা খাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে লাভও হতে পারে লোকসানও হতে পারে। বাংলাদেশে ব্যবসার সিস্টেম হচ্ছে একমুখী। কেউ ব্যবসায় ঢুকে গেলে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। বিদেশে বের হওয়ার অনেক সুযোগ থাকলেও আমাদের দেশে নেই।

এই বিভাগের আরও খবর