শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২১ ২৩:০৪

বা জে ট প্র তি ক্রি য়া

অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার চান সিমেন্ট শিল্প মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

অসমন্বয়যোগ্য অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সিমেন্ট শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিসিএমএ। সংগঠনটি বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট খাতে যে কর সুবিধাটুকু দেওয়া হয়েছে, তার প্রভাব খুবই সামান্য হওয়ায় এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত অসমন্বয়যোগ্য অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি সিমেন্টের সরবরাহ পর্যায়ে আরোপিত উৎসে করও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছেন সিমেন্ট শিল্প মালিকরা।

বিসিএমএ জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত। দেশের প্রতিটি শিল্প খাতই কঠিন এক সময় পার করছে। এরকম এক সময় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে যা শুধু আশাব্যঞ্জকই নয়, সময়োচিত পদক্ষেপও বটে। পাশাপাশি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দক্ষতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি তাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও আদায় দুটোই বেড়েছে। বিসিএমএ জানিয়েছে, সিমেন্ট শিল্পের কথা চিন্তা করে যদিও বাজেট প্রস্তাবনায় সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এটি বরাবরের মতোই অসমন্বয়যোগ্য বা চূড়ান্ত করদায় হিসেবেই রাখা হয়েছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিল্প মালিকরা চান সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। একান্তই যদি না হয়, তাহলে নিদেনপক্ষে যাতে এটি সমন্বয়যোগ্য করা হয়। পাশাপাশি সিমেন্ট সরবরাহে উৎসে কর কর্তনের হারও যেটা ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সেটিও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছে বিসিএমএ। এ প্রসঙ্গে বিসিএমএ সভাপতি মো. আলমগীর কবির বলেন, কোনো একটা খাতের জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত অহেতুক চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ আমরা পূর্ব থেকেই কেউ বলতে পারি না কোন খাত কত মুনাফা করবে। এটি দেশের অর্থনীতি, বাজার ব্যবস্থা, চাহিদা এবং সর্বোপরি উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতার মধ্যে নির্ভর করে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি যেটিই হোক না কেন, সরকার নির্ধারিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষা (অডিট) হওয়ার পর আর্থিক প্রতিবেদন বা লাভ-লোকসান নির্ধারিত হয়। সেখানে কোনো ব্যতিক্রম করার সুযোগ থাকে না। তারপরও সরকার যদি মনে করে অগ্রিম আয়কর দেওয়া উচিত তাতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু যে আয়কর নেওয়া হবে সেটি কোনোভাবেই চূড়ান্ত দায় হওয়া উচিত না। তাই আমাদের দাবি হলো যে, আমদানিস্থলে অগ্রিম আয়কর ও সরবরাহের বিপরীতে ন্যূনতম আয়কর ধারা ৮২-সি এর উপধারা-২ এর ধারা (ন)এ উল্লিখিত ৫২ এবং এর উপধারা (রর) সম্পূর্ণ বিলুপ্তকরণ। তিনি আরও বলেন, আমরা দেশের সমুদয় চাহিদা মিটিয়ে সিমেন্ট রপ্তানি করছি, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতের রপ্তানি প্রণোদনা বা রপ্তানি প্রত্যর্পণ (ডিউটি ড্রব্যাক) সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমরা পাইনি। বিসিএমএ জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সিমেন্ট শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫টির মতো দেশি-বিদেশি কোম্পানি সিমেন্ট উৎপাদন করছে। দেশে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪ কোটি টন যার বিপরীতে প্রায় ৮ দশমিক ৪ কোটি টন উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তাছাড়া, এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কয়েক লক্ষাধিক নির্মাণ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি এ খাত থেকে সরকারি কোষাগারে শুল্ক-করের মাধ্যমে জমা করা হয়। দেশে সিমেন্টের সমুদয় চাহিদাই মেটানোর পাশাপাশি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশেও সিমেন্ট রপ্তানি হচ্ছে। চীনে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার ১ হাজার ৭০০ কেজি, মালয়েশিয়ায় ৮৯০ কেজি, থাইল্যান্ডে ৬২০ কেজি, ভিয়েতনামে ৫১৮ কেজি, পার্শ্ববর্তী ভারতে ৩০৫ কেজি, শ্রীলঙ্কায় ৪১২ কেজি এবং বাংলাদেশে ২১০ কেজি।