শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩০

জাপান থেকে এলো আড়াই লাখ টিকা

২১ কোটি ডোজের ব্যবস্থা হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Google News

বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েছে জাপান। আগামী শুক্রবার আসবে আরও ৫ লাখ ডোজের চালান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান। এর ফলে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে বিপাকে পড়া বিশালসংখ্যক বাংলাদেশির সংকট কেটে যাবে। সংকটের মুহূর্তে বাংলাদেশকে এই টিকা দেওয়ায় জাপানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাপান থেকে কার্গো বিমানে গতকাল বিকালে ঢাকা এসে পৌঁছায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের হাতে টিকাগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম ‘কোভ্যাক্স’-এর আওতায় বাংলাদেশকে জাপান এ টিকা দিল। বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা সৌভাগ্যবান। কারণ যে টিকার জন্য অনেকে অপেক্ষা করছেন, ১৫-১৬ লাখ লোক, এই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা করছিলেন। আমরা খুবই আনন্দিত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপান ২ লাখ ৪৫ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উপহার দিল। আগামী শুক্রবার তারা এর থেকে ডাবলের বেশি দেবে। সর্বমোট তারা ৩০ লাখ ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে। আগে বলেছিল ২৯ লাখ দেবে, তার পরে আরও দেড় লাখ যোগ হয়েছে।’ এ জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপান আমাদের পুরনো বন্ধু। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাপান আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের এই কঠিনতম সময়ে জাপান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা খুব ভাগ্যবান জাপান আমাদের টিকা দিচ্ছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে কভিড টিকা নিয়ে সমস্যা কেটে যাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা পাচ্ছি। আমরা টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আগামীতে টিকার সমস্যা হবে না। তবে স্থানীয়ভাবে এটা তৈরি করতে হবে, এর বিকল্প নেই। আমরা সে জন্য প্রস্তাবও পেয়েছি এবং শিগগিরই যৌথ উৎপাদনে যাব। অন্যান্য দেশ যৌথ উৎপাদনে গেছে, ওরা ভালো করছে।’

জানা যায়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় যারা প্রথম ডোজে কভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করতে হলে আরও ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯৪৭ ডোজ টিকা দরকার। পরে বাংলাদেশে বিভিন্ন কোম্পানির টিকার ব্যবস্থা হলেও যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছিলেন তাদের জন্য এই টিকাই প্রয়োজন ছিল। এ জন্য নানা প্রচেষ্টা চালিয়েছে বাংলাদেশ, যোগাযোগ করেছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। কিন্তু কিছুতেই যখন অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না, তখনই নিজেদের টাকায় টিকা কিনে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উপহার দিল জাপান। অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতেই বৈশ্বিক প্ল্যাটফরম এই ‘কোভ্যাক্স’। কোভ্যাক্স থেকে ৬ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

২১ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা হয়েছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমরা ২১ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছি টিকা পাওয়ার। এর মধ্যে চীনের ৩ কোটি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের ৭ কোটি ডোজ, রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ রয়েছে।’

গতকাল বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় সভায় এক জুম মিটিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় কভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছরের সেকেন্ড কোয়ার্টারের মধ্যে জনসনের টিকা দেশে আসবে। এই ২১ কোটি ডোজ যদি সময়মতো পাই তাহলে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।’

করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে সম্মুখ সারিতে কাজ করা পেশাজীবীদের পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা করোনাভাইরাসের টিকা পাবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং শিক্ষকদের আগে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া তাদের পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেসব সদস্য আছে, তাদেরও টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি আমরা। এখন থেকে এটা কার্যকর। সুরক্ষা অ্যাপে এটা দিয়ে দিচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ হবে। যারা সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে না তাদেরও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’