সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
ঘাতক নির্মূল কমিটির সম্মেলন

আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে হুমকির মুখে পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্লেষকরা আফগানিস্তানে তালেবান মৌলবাদীদের উত্থানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকিতে পড়বে।

গত শনিবার ‘আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পরিণাম’ শীর্ষক এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক-সাংবাদিক-চলচ্চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার কবির। বক্তব্য প্রদান করেন যুক্তরাষ্ট্রের আফগান ইনটেলেকচুয়ালস গ্লোবাল কমিউনিটির সভাপতি ড. শাহী সাদাত, ব্রাসেলসের সাউথ এশিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য মানবাধিকার নেতা পাওলো কাসাকা, সুইডেনের উপসালা ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাটর্নি মোনা স্ট্রিন্ডবার্গ, প্যারিসের ইনস্টিটিউট ডি রিসার্চ অ্যাট ডিটিউডস স্ট্র্যাটেজিকস ডি খাইবারের (আইআরইএসকে) সভাপতি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিনিধি পশতুন নেতা ফজল-উর রেহমান আফ্রিদি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন হোসেন বাদশা এমপি, ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা কলামিস্ট জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ভারতের দৈনিক পাইওনিয়ার-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিরন্ময় কার্লেকার, পাকিস্তানের মানবাধিকার নেত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গবেষক-পরিকল্পক তাহিরা আবদুল্লাহ, যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ড. লাকুমাল লুহানা, যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি তরুণ কান্তি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমদ উল্লাহ ও জাতিসংঘের শিশু অধিকার সম্পর্কিত কমিটির সদস্য ফয়সাল হাসান তানভীর। ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার ১২টি দেশের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী এবং আইন প্রণেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন এবং ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের কারণে আফগানিস্তানের মানুষের জীবন ও জীবিকার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিপন্ন হতে পারে। যদি পশ্চিমা শক্তিগুলো আফগান জনগণের দুর্দশার কথা চিন্তা না করে আফগানিস্তান, পাকিস্তান বা অন্য কোনো দেশে তালেবান-আল-কায়েদার মতো জঙ্গিদের ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনুমোদন করে তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও ৯/১১-এর মতো বহু ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে হতে পারে।

আলোচকরা আরও বলেন, রক্তাক্ত ইরাক যেমন মধ্যপ্রাচ্য হয়ে এশিয়া পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি সংঘাতময় আফগানিস্তান প্রকৃতপক্ষে পুরো দক্ষিণ এশিয়াকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সম্মিলিতভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো এই ইস্যুতে কাজ করতে না পারলে আগামীতে সবাইকে এর মাশুল গুনতে হবে। সম্মেলনে সব বক্তাই আফগানিস্তানে সম্ভাব্য তালেবান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠনে বিশ্বের আলোকিত নাগরিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।