শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
তীব্র যুদ্ধ আফগানিস্তানে

ক্ষমতা ভাগাভাগিতে সম্মত তালেবান ও সরকার!

প্রতিদিন ডেস্ক

তীব্র লড়াইয়ের পর গতকাল তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র দেড়শ কিলোমিটার দূরের প্রাদেশিক রাজধানী গজনি দখল করে নিয়েছে। এ নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১০টির রাজধানী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে গেছে। এ ছাড়াও প্রচ- যুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে। আফগানিস্তানের সরকার ও তালেবান ক্ষমতা ভাগাভাগিতে সম্মত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে  আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি।

এএফপি, রয়টার্স।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কৌশলগত কারণে গজনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শহরটি কাবুল-কান্দাহার মহাসড়কসংলগ্ন অবস্থিত। কাবুলের সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ এই সড়কপথ দিয়েই হয়ে থাকে। গজনির প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান নাসির আহমেদ ফকিরি গতকাল বলেন, ‘শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। তার মধ্যে গভর্নরের কার্যালয়, পুলিশ সদর দফতর ও কারাগার রয়েছে। গজনির বিভিন্ন অংশে এখনো আফগান সেনাদের সঙ্গে তালেবানের লড়াই চলছে। তবে শহরের বেশির ভাগ এলাকাই তালেবানের দখলে চলে গেছে। আফগানিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তীব্র লড়াইয়ের পর তালেবান গজনির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং নগরীর সব সরকারি সংস্থার সদর দফতর দখল করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাদেশিক গভর্নরসহ সব স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে কাবুলের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ গত বুধবার আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বাদাখসান প্রদেশের রাজধানী ফাইজাবাদেরও দখল নেয় তালেবান। গজনি ও ফাইজাবাদ ছাড়াও ফারাহ, পুল-ই-খুমরি, জারাঞ্জ, কুন্দুজ, তাকহার, সার-ই-পল, তালুকান ও সেবারঘান দখল করেছে তালেবান। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গজনি ও ফাইজাবাদের পতনের পর প্রচ- চাপে রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় শহর মাজার-ই-শরিফ। তালেবানরা শহরটির কাছাকাছি চলে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায়ই আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি গতকাল মাজার-ই-শরিফ সফর করেন।

 শহরটি রক্ষায় তিনি সেখানকার তালেবানবিরোধী যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারেও তীব্র লড়াই চলছে বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে এক চিকিৎসক জানান, শহরের হাসপাতালটি সশস্ত্র বাহিনীগুলোর বহু সদস্যের মৃতদেহ আর কিছু আহত তালেবানকে গ্রহণ করেছে। তালেবান জানিয়েছে, তারা কান্দাহারের প্রাদেশিক কারাগারের দখল নিয়েছে। কান্দাহারে একজন ত্রাণকর্মী বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত একটানা লড়াই চলে তারপর ফজরের নামাজের পর আবার শুরু হয়।’ খবর পাওয়া গেছে, এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পরিবার পালিয়ে নিরাপত্তার খোঁজে কাবুল ও অন্যান্য শহরে জড়ো হচ্ছে। ফলে কাবুলের বাইরে স্থাপন করা হচ্ছে অস্থায়ী তাঁবু। আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কিংবা পরিত্যক্ত গুদামঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তালেবানের দেওয়া আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর কুন্দুজ প্রদেশ থেকে পালিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এক অস্থায়ী দোকানদার। তিনি বলেন, ‘রুটি কেনার অর্থ নেই, সন্তানের জন্য ওষুধ কিনব তারও কোনো উপায় নেই।’ জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে আফগানিস্তানে ১ হাজারের বেশি  বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। কেবল এই সপ্তাহেই উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার আশায় কাবুলে পাড়ি জমাচ্ছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বলছেন, গজনি থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় নাগালে থাকা রাজধানী কাবুল ৯০ দিনের মধ্যে বিদ্রোহিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তবে আফগান সরকার নতুনভাবে লড়াইয়ের জন্য জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আহমদজাইকে সরিয়ে আফগানিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল হায়বাতুল্লাহ আলিজাইকে নিয়োগ দিয়েছে।

সর্বশেষ খবর