শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:২১

টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্তি আজ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্তি আজ
Google News

দুই দশক পূরণ হচ্ছে ১১ সেপ্টেম্বর ৯/১১ এর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলার। ২০০১ সালের এই দিনে আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা বিমান ছিনতাই করে হামলা চালিয়েছিল নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ায়। এতে ছয় বাংলাদেশিসহ ২ হাজার ৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংস হয় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ হামলার পর পাল্টে যায় বিশ্বের চিরচেনা অবস্থা। সর্বত্র জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেই হামলার পরই আফগানিস্তানে যুদ্ধে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তালেবানের সঙ্গে আল-কায়েদার সম্পর্ক রয়েছে এবং ওসামা বিন লাদেন আফগানের পর্বতে অবস্থান করেই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস চালাত বলে মনে করেই মার্কিন বাহিনী হামলা করে। সেই হামলার বয়স ২০ বছর হয় এ বছর। জো বাইডেন সমাপ্তি টানলেন কদিন আগে। বলা যেতে পারে, ভিয়েতনামের মতোই লেজ গুটিয়ে ফিরেছে মার্কিন বাহিনী। এদিকে আজ গ্রাউন্ড-জিরোর স্মরণ সমাবেশে বাংলাদেশি ভিকটিম শাকিলা ইয়াসমীন এবং তার স্বামী নুরল হক মিয়ার স্বজনরাও থাকবেন বলে জানা গেছে। অপর বাংলাদেশি ভিকটিম সাব্বির হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে মনসুর, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের স্বজনরাও প্রতিবছর গ্রাউন্ড জিরোতে আসেন এবং গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সবাইকে। এবারের স্মরণ সমাবেশ ভিন্ন মাত্রা পাবে। কারণ, ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা পুনরায় আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি কীভাবে ঘটল-এ প্রশ্ন ভিকটিম-স্বজনদের। ২০০১ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র টুইন টাওয়ার ও সেনা সদর দফতর পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে গোপন তথ্য ও দলিলপত্র প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক নির্বাহী আদেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ২০০১ সালের হামলা সম্পর্কিত গোপন তথ্য ও দলিলপত্র প্রকাশের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য যে সুপারিশ করেছিল তা বাতিল করে দিয়ে বাইডেন এ নির্দেশ দিলেন। বলা হচ্ছে, মার্কিন গোপন এসব দলিলপত্রে সৌদি আরবের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হতাহতদের স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে এ বিষয়ে গোপন রিপোর্ট প্রকাশের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। ওই সন্ত্রাসী হামলায় ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, হামলায় ১৯ জন আল-কায়েদার সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। তবে অনেক স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ও গবেষক সরকারি এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তৎকালীন মার্কিন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিসহ কিছু কর্মকর্তা ওই হামলার পরিকল্পনা করেন কিংবা অন্ততপক্ষে তারা হামলার জন্য উৎসাহ জুগিয়েছিলেন, যাতে ইহুদিবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধ শুরু করা যায়।

সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তির দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সঙ্গে থাকবেন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনও। গ্রাউন্ড জিরোতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি স্বজন হারানোদের সঙ্গে কথা বলবেন। গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন নিহতদের প্রতি। পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়া স্থানেও যাবেন বাইডেন। পেন্টাগনের স্মরণ সমাবেশেও উপস্থিত থাকার কথা প্রেসিডেন্টের।