মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

নরসিংদীতে সন্ত্রাসী তান্ডবে সহস্রাধিক পরিবার গ্রামছাড়া

সঞ্জিত সাহা, নরসিংদী

নরসিংদীর আলোকবালী ও রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল চরদিগলদীতে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউপি নির্বাচনের সহিংসতায় দীর্ঘ হতে পারে লাশের মিছিল। সেখানে রক্তপাতের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে এক শ্রেণির মানুষ। সম্প্রতি আলাদা কয়েকটি সংঘর্ষে আটজন নিহতসহ দুই শতাধিক মানুষ আহত হলেও থামছে না এ নৈরাজ্য। অভিযোগ উঠেছে, আধিপত্য টিকিয়ে রাখাসহ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই প্রতিপক্ষকে দমাতে রক্তপাতের নেশায় মেতে উঠেছেন গ্রাম্যপতিরা। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার চরদিঘলদী ও আশপাশের চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে টেঁটাসহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউপি নির্বাচন কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১ হাজার ২০০ পরিবারকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ এনে তা থেকে রক্ষাসহ সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে আবেদন করা হয়েছে। এতে সদর আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম (বীরপ্রতীক), নরসিংদী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দফতরে অভিযোগ দাখিল করে আইনগত সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, ১১ নভেম্বরের চরদিঘলদী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিন নেতা। পরে নৌকার দলীয় মনোনয়ন পান দেলোয়ার হোসেন শাহীন। এতে নাখোশ হয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এরই মধ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শক্তি বৃদ্ধি করতে চরদিঘলদী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের চেয়ারম্যান প্রার্থী  ইউনুস এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর টেঁটা, বল্লম, আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরদিঘলদী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর, তিন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ আওয়ামী লীগ পরিবার এলাকাছাড়া। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জলিল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে এবং আমার সমর্থকদের মারধর করছে। এমনকি আমাদের গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারকে গ্রামছাড়া করেছে। আমরা গ্রামে ফিরে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই।’ আরেক প্রার্থী সাইদ মিয়া বলেন, ‘আমার প্রচারণা চালানোর সময় নৌকার প্রার্থীর লোকজন হামলা চালায়। ওই সময় তারা আমার চাচাতো ভাইয়ের চোখ উপড়ে ফেলে এবং তাকে টেঁটাবিদ্ধ করে। এখন মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’ বর্তমান ইউপি সদস্য মুশিদুল হক সরকার বলেন, নৌকার প্রার্থী শক্তি বাড়াতে চরদিঘলদী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। পরে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়াসহ তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এলাকাছাড়া করে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদ বলেন, সহিংসতা রোধে চরদিঘলদীতে অভিযান চালিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও শতাধিক  টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য প্রতিদিন পুলিশের অভিযান চলছে।

সর্বশেষ খবর